হাই কোর্টের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে প্রার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০ থেকে ৩০ জন চাকরিপ্রার্থী আহত হয়েছেন। এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন নিয়োগ বাতিল হওয়া শিক্ষকরা। পরে বিকাল ৩টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে আসেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের বাধা পেরিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। চাকরিপ্রার্থী পিয়াল মুহাইমিনুল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সন্তানসম্ভবা এক চাকরিপ্রার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ! বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া ২০-৩০ জন প্রার্থী লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন। পরে বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফিরে আসেন এবং দাবি মানা পর্যন্ত অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পিয়াল মুহাইমিনুল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আগে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। আগের নিয়ম মেনে দুই ধাপে শিক্ষকরা চাকরিতে যোগদান করেছেন। তাহলে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় আবেদন করে কেন আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হবে? এমন অবিচার মেনে নেওয়া হবে না। চাকরিতে যোগদান পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দেন হাই কোর্ট। এর আগে ১৯ নভেম্বর এঁদের নিয়োগপত্র প্রদানের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাই কোর্ট। কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন। ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।