ঢাকায় গণপরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিনের। তবে নতুন করে সড়কে আতঙ্ক তৈরি করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। ৫ আগস্টের পর মূল সড়কে চলাচল বেড়েছে তিন চাকার এই বাহন দুটির। এ ছাড়া প্যাডেলচালিত রিকশা তো রয়েছেই। এদিকে নগর পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বেড়েছে অবৈধ গাড়ির চাপ। রাজধানী ঢাকাতে বিভিন্ন রুটে অবৈধ বাসের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। শুধু হাতিরঝিলেই অবৈধভাবে চলছে ৪ কোম্পানির বাস।
ঢাকায় অবৈধ বাসের ছড়াছড়ি : ঢাকার মোট আয়তনের মাত্র ৭.৫ শতাংশ সড়ক। এর মধ্যে মাত্র ২.৫ শতাংশ রাস্তা গণপরিবহনের জন্য উপযুক্ত। সেখানেও অবৈধ যানবাহনের অবাধ চলাচল। অনুমোদনহীন বাসের দৌরাত্ম্য রাজধানীতে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ মোড় দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করা ১ হাজার ২২৫টি বাসের মধ্যে ৬৫৫টি অবৈধ। মতিঝিল দিয়ে চলাচল করা ৫৭৫টি বাসের মধ্যে ২৬২টি অবৈধ। এ ছাড়া বাড্ডা-রামপুরা, মোহাম্মদপুর-মিরপুর, যাত্রাবাড়ী দিয়ে চলাচল করা বেশির ভাগ বাসই অবৈধ। সদরঘাট থেকে নবীনগর রুটের সাভার পরিবহন লিমিটেডের ২০৪টি বাসের মধ্যে ১৩৭টি অবৈধ, ঘাটারচর থেকে সোনারগাঁ রুটের রজনীগন্ধা পরিবহন লিমিটেডের ১২২টি বাসের মধ্যে ১০৯টি অবৈধ, দিয়াবাড়ি থেকে পোস্তগোলা রুটের রাইদা এন্টারপ্রাইজের ২১১টি বাসের মধ্যে ১০০টি অবৈধ এবং নন্দন পার্ক থেকে চাষাঢ়া রুটের মৌমিতা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ১৯৮টি বাসের মধ্যে ১৯৮টি অবৈধ।
জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, যাত্রী চাহিদাকে পুঁজি করে অবৈধ বাস চালানো হচ্ছে। যেখানে ১০ গাড়ির অনুমোদন আছে, সেখানে ২০টি গাড়ি চলছে। এ ধরনের অনিয়মগুলো আছে। তবে বিআরটিএ ব্যবস্থা নিলে অবৈধ বাসগুলো চলতে পারবে না।
মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক : সড়কে বেপরোয়া এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। অলিগলি থেকে বের হয়ে এখন প্রধান প্রধান সড়কে আধিক্য এসব লাইসেন্সবিহীন তিন চাকার পরিবহনের। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী যে সব যান থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কর আদায় করতে পারে বা নিবন্ধন দিতে পারে সেই তালিকায় নেই ব্যাটারিচালিত এই বাহন। ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি বাড়ছে নাগরিক ভোগান্তি। জনভোগান্তির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ব্যাটারিচালিত রিকশা। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা কীভাবে সড়কে চলাচল করতে পারবে সে জন্য স্থানীয় সরকার সাত সদস্যের একটি কমিটি করে। কমিটি গত মাসের ২৮ তারিখ একটি সভা করে। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
এ ছাড়া প্যাডেলচালিত রিকশাও রাজধানীর যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। সীমিত সংখ্যক লাইসেন্সের বিপরীতে অনুমোদনহীন লাখ লাখ রিকশা চলছে এ নগরীতে।
হাতিরঝিলে চলছে চার কোম্পানির বাস : হাতিরঝিলে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয় ২০১৫ সালে। ওই সময় রামপুরা, তেজগাঁও, গুলশান ও বাড্ডায় সহজে যাতায়াতের জন্য এই চক্রাকার বাসটি চালু করা হয়। সব ঠিকঠাক চললেও জানুয়ারি থেকে হাতিরঝিল সড়কে চারটি কোম্পানির অবৈধ বাস চলাচল করছে। এগুলো হলো প্রভাতী বনশ্রী, গাজীপুর পরিবহন, বলাকা ও আজমেরী গ্লোরী। এ পরিবহনগুলো সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, সদরঘাট থেকে ছেড়ে রামপুরা, হাতিরঝিল হয়ে তেজগাঁও দিয়ে গাজীপুর চলে যায়।
এ বিষয়ে ডিটিসিএ ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বলেন, হাতিরঝিলে চলাচলকারী এসব বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু করা হবে। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।