রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা। জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে গতকাল বেলা ১১টার দিকে তারা শাহবাগ অবরোধ করলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শাহবাগ ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
নিহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ছয় মাস পার হয়ে গেছে, অথচ বিচারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটা কি আমাদের ভাইদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি নয়? এ সময় তারা অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস শাহবাগে এসে তাদের সঙ্গে দেখা না করলে জুলাই হত্যা মামলা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দেন। অবশ্য পরে সারজিস আলমসহ কয়েকজন সমন্বয়ক শাহবাগে এসে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সন্ধ্যার দিকে অবরোধ তুলে নেন। জুলাই-আগস্টে নিহত একজনের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে তারা কুপিয়ে হত্যা করেছে। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত আমাদের পুরো পরিবারকেই হত্যা করেছে। কারণ পরিবার যে চালায় সে না থাকলে পরিবারের আর কিছু থাকে না। এখনো কেন আসামি ধরা হচ্ছে না? এখনো কেন বিচার করা হচ্ছে না? কেন আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে? আমরা সরকারের কাছে এগুলোর জবাব চাই।
আন্দোলনে ছেলে হারানো এক অভিভাবক বলেন, আমরা গণহত্যার বিচার ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে অনেকের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি, কিন্তু সহানুভূতির পরিবর্তে পেয়েছি অবহেলা ও অসম্মান। শহীদ ইমাম হোসেনের ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের গত ৩০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা, তবে দেখা করেননি তিনি। তাহলে শহীদ পরিবার যাবে কোথায়? আজকে ড. ইউনূস এখানে আসবেন। তা না হলে আমরা শহীদ পরিবার সব মামলা প্রত্যাহার করে নেব। আরেক নিহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের ছেলে হারিয়ে আজ আমরা রাস্তায়। আমরা অনেক কষ্টে আছি। আমরা সারা দিন কাজকর্ম করে ফিরে সন্তানকে দেখতে না পাওয়ায় নিজেদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়, তখন মনে হয় যেন আত্মহত্যা করি। আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) আমাদের সঙ্গে দেখা করেন, এতে করে আপনি আমাদের মনের কষ্টের কথা শুনতে পারবেন। শহীদদের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। শহীদ ও আহতদের কারণে আজ বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, শহীদ পরিবারের রাস্তায় নামতে হলো কেন? ৬ মাস পার হলেও বিচারের নামে প্রহসনের খেলা আর কতদিন চলবে? বিচারের নামে যে রঙ্গমঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, সে রঙ্গমঞ্চের বিচারের খেলা আর কতদিন চলবে? শহীদ পরিবারকে কেন রাস্তায় নামতে হলো, এর উত্তর কে দেবে? সবাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ান।
নিহত পরিবারের অভিযোগ, তারা গত কয়েক মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করা চেষ্টা করে আসছেন, তবে তাদের সে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। জুলাই গণহত্যায় চলমান বিচারিক কার্যক্রমের সমালোচনা করে তারা বিষয়টিকে ‘সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, মারাত্মক ক্র্যাকডাউনের আদেশ দানকারী এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী অনেকেই এখনো বিচারের সম্মুখীন হয়নি। অধিকাংশ অপরাধী প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা।