বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা ২০২৪ সালে ২৭ শতাংশের বেশি কমেছে। গত বছর ১০ লাখ ৯ হাজার ১৪৬ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪ লাখ কম। ২০২৩ সালে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৮১১।
‘আমি প্রবাসী’র বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিম্নগামী ধারার মধ্যেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) নিবন্ধনে নারীদের অংশগ্রহণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালে মোট বিএমইটি নিবন্ধনে নারী অভিবাসীদের নিবন্ধনের হার ছিল ২.৭৮ শতাংশ; যা ২০২৪ সালে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৭৯ শতাংশে। ২০২৩ সালের মতো ২০২৪ সালেও বাংলাদেশি অভিবাসীর শীর্ষ গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। মোট অভিবাসনের ৬২.১৭% (প্রায় ৬, লাখ ২৭ হাজার কর্মী) সৌদি আরবে গেছেন, যেখানে অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা অব্যাহত ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশি কর্মীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য মালয়েশিয়ায় অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৯৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছেন। দেশটির নতুন শ্রমনীতি এর মূল কারণ। গত বছরের প্রথমার্ধে মালয়শিয়ায় অভিবাসন স্বাভাবিক গতিতে চললেও ২০২৪-এর মে মাসের পর থেকে দেশটিতে অভিবাসনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমতে থাকে। অভিবাসন হ্রাস পাওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা কারণও ভূমিকা রেখেছে। জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিদেশগামী কর্মীদের কিছুটা অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। এ ছাড়া, দক্ষ কর্মী তৈরির অন্যতম মাধ্যম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন কোর্সেও ভর্তির সংখ্যা কমেছে। ২০২৩ সালে যেখানে দেশব্যাপী বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৭০, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ লাখ ১২ হাজার ১৬৬-তে। যার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা কমে আসা।