আড়াই হাজার বছর আগে মাটিচাপা পড়া ইতিহাস তুলে আনতে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে আবারও চলছে বাংলাদেশ-ফ্রান্সের যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ। খনন শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত আটটি কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে মূল্যবান পোড়ামাটির বল, কাচের পুঁতি, মৃৎপাথরের টুকরাসহ প্রাচীন স্থাপনার নানা নিদর্শন। বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৮ জানুয়ারি মহাস্থানগড়ের বৈরাগী ভিটার সাউথ ইস্ট এলাকায় খননকাজ শুরু হয়। কাজটি চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তিনটি বর্গে ভাগ করে খননকাজে নিয়োজিত রয়েছেন ২৪ জন শ্রমিক। প্রতিটি বর্গে আটজন করে কাজ করছেন। এর আগে ২০২০ সালে বৈরাগীর ভিটায় খননের পর প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন মেলে। এবারও একই স্থানে খননকাজে আটটি কূপের সন্ধান মিলেছে। পাশাপাশি বেশ কিছু পোড়ামাটির বল, কাচের মালার পুঁতি, মৃৎপাথরের টুকরাসহ প্রাচীন স্থাপনার নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে; যা অনেক মূল্যবান।
খননকাজে নিয়োজিতদের ধারণা, এসব খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে ১৪০০-১৫০০ শতকের। এ সময় লৌহযুগেরও শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
খননে পাওয়া পুরাকীর্তি নিদর্শন নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করবেন। গবেষণা শেষে নিদর্শনগুলো মহাস্থানগড়ের জাদুঘরে সংরক্ষিত করা হবে। খননকাজ চলাকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি ম্যাসদুপিন ৩১ জানুয়ারি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি প্রত্ননিদর্শন ও খননকাজে নিয়োজিতদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
রাজশাহী-রংপুর বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানা জানান, মহাস্থানগড়ের বৈরাগী ভিটার উত্তর-পূর্ব পাশে খননকাজ চলছে। এবার খননের সময় পোড়ামাটির বল, কাচের মালার পুঁতি, মৃত পাথরের টুকরাসহ প্রাচীন স্থাপনার নানা নিদর্শন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আটটি কূপের মতো পাওয়া গেছে। আরও কিছু খনন করা গেলে এবং গবেষণা শেষে ধারণা করা যাবে কত শতকে এ অঞ্চলটি গড়ে উঠেছিল। মহাস্থানগড়ের প্রাচীনত্ব বিশ্বস্বীকৃত। সে স্বীকৃতির নিদর্শনই প্রতি বছরের খননকাজে উন্মোচিত হচ্ছে।
ফ্রান্স দলের বিশেষজ্ঞ প্রত্নবিদ ও আঞ্চলিক পরিচালক ড. কলিন নেফ্রাংক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ১৮ জানুয়ারি বৈরাগী ভিটার সাউথ ইস্ট এলাকায় খননকাজ শুরু হয়। চলবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। খননের সময় অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে; যা পরবর্তী প্রজন্মের কাজে দেবে।