গতকাল ছিল মেলার তৃতীয় দিন। প্রথম দুই দিন লোকসমাগম কম থাকাতে কিছুটা হতাশ ছিলেন প্রকাশকরা। তবে গতকাল সেই হতাশা অনেকাংশে কমে গেছে। স্বরস্বতী পূজার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জটলা মেলা প্রাঙ্গণে অন্যরকম এক ভালো লাগার পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মেলাজুড়ে মূর্ত জুলাই অভ্যুত্থান : ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পাওয়া ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবারের বইমেলা একটু ব্যতিক্রমী হবে সেটাই স্বাভাবিক। ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে বায়ান্নর চেতনার সঙ্গে ২৪-এর প্রেরণা একাকার হয়ে প্রাণের মেলা যে নতুন রূপ ধারণ করার কথা তা-ই লক্ষ্য করা গেছে মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অঙ্গনের ফেস্টুন ও স্টল বিন্যাসে বায়ান্ন ও ২৪-এর নানা স্লোগানে ফুটে উঠেছে ভাষা আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তেভেজা ইতিহাসের ছিটেফোঁটা। স্টল বিন্যাসে লাল-কালো আর সাদা রঙের প্রাধান্যের সঙ্গে ‘স্বাধীনতা তুমি শহীদ মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা’, ‘আমার খায় আমার পরে, আমার বুকেই গুলি করে’, ‘হামার ব্যাটাক মারলু ক্যানে’, ‘আপস না সংগ্রাম?, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘আসছে ফাগুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’, মেলা প্রাঙ্গণে এমন স্লোগানের ফেস্টুনে একুশের শানিত চেতনার সঙ্গে মূর্ত হয়ে উঠেছে জুলাই অভ্যুত্থান।
নতুন বই : গতকাল তৃতীয় দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৩২টি। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপ বিভাগের তথ্য মতে, গত তিন দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে মোট ৪৫টি।
মূল মঞ্চ : বিকালে মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘হায়দার আকবর খান রনো : আজীবন বিপ্লব-প্রয়াসী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোহরাব হাসান। আলোচনায় অংশ নেন আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, জলি তালুকদার এবং অনন্যা লাবণী পুতুল। সভাপতিত্ব করেন দীপা দত্ত। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মোহন রায়হান ও রেজাউদ্দিন স্টালিন। আবৃত্তি করেন মাহমুদা সিদ্দিকা সুমি এবং হ্যাপি হাবিবা। ড. ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামানের পরিচালনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাঁশরী’র পরিবেশনা। এতে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী এ কে এম শহীদ কবির, রেজাউল করিম, মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, রত্না দাস, দেবাশীষ শর্মা ও মাহমুদুল হাসান। মেলা প্রাঙ্গণে বিকালে কথা হয় সম্প্রীতি প্রকাশনীর কর্ণধার রেজাউল করিম বিল্লালের সঙ্গে। তিনি বলেন, আশা করছি মেলায় লোকসমাগম ও বিক্রি বাড়বে। অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা জানান, তাদের বিক্রি খুবই ভালো। সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, থ্রিলার থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিক সাহিত্য, ভ্রমণ, মনীষীদের জীবনী, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ইসলামি বইসহ সব ধরনের বই পাওয়া যায় বলে আমাদের প্যাভিলিয়নে সব সময় পাঠকদের ভিড় লেগেই থাকে। আমাদের বিক্রিও ভালো।