যুক্তরাষ্ট্রে ১২ দিনে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ৬ সহস্রাধিক বিদেশিকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১ কোটি ১৭ লাখ অবৈধকে গ্রেপ্তারের এই অভিযানে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর সঙ্গে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযান থেকে বাদ যাচ্ছে না স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ-মন্দির-চার্চ-সিনেগগ এবং আদালত পাড়াও। গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনার সময় আইডি প্রদর্শনে সক্ষম না হওয়ায় কয়েক ডজন বৈধ অভিবাসীকেও আটকের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এই অভিযানের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিশিগানের ডেট্রয়েট, পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া, নিউইয়র্কের কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, বাফেলো, নিউজার্সির প্যাটারসন, বস্টনের ক্যামব্র্রিজ, টেক্সাসের হিউস্টন ও ডালাস, জর্জিয়ার আটলান্টাসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে। জন চলাচল কমেছে। বিশেষ করে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্টে বেচাকেনা নেই বললেই চলে।
এ ছাড়া সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেই আরও ৬ লাখের অধিক ভেনেজুয়েলার অভিবাসীকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরা ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক মাদুলোর অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাদের আরও ১৮ মাস সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতি (টিপিএস) দিয়েছিলেন হোয়াইট হাউস ত্যাগের প্রাক্কালে, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছর সেপ্টেম্বরে। অবৈধ অভিবাসন দ্রুত হ্রাসের জন্য ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে সুদান, এলসালভেদর এবং হাইতির লোকজন। আর এভাবে গোটা আমেরিকায় অস্বস্তি এবং ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এহেন অবস্থার অবসানে ২ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেস, ডালাস, জর্জিয়া, আরাকানসাস, মিজৌরি, ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক সিটিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ‘অভিবাসীদের রক্ত পানি করা শ্রমে গড়ে ওঠা আমেরিকায় অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজপথ।