গুলির পর নিখোঁজ ছিল মো. মেহেদীর লাশ। ছয় মাসেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শ্রমিক মেহেদীর মা পারভীন আক্তার মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, ছয় মাস পার হলেও যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়ে মামলা করতে পারেননি। থানা পুলিশ মেহেদীর মায়ের মামলা গ্রহণ করেনি। গতকাল সকালে থানায় মামলা নথিভুক্তসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবে ছেলে হারানো মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই, জড়িত আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সদস্যদের বিচার চাই। পারভীন আক্তার বলেন, ১০ বছর ধরে আমার ছেলে মেহেদী কারখানায় কাজ করে। ওর উপার্জনেই চলছিল পরিবার। আমি অসুস্থ, ওর বাবাও অসুস্থ। গত ১৯ জুলাই মেহেদীকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু মেহেদী বলে, তরুণ-যুবকরা জীবন দিতাছে, আর আমারে ঘরে আটকে রাখবা? আন্দোলনে যাওয়ার জন্য দরজা ভাঙার হুমকি দিলে দরজা খুলে দিই। মেহেদী গোসল, ভাত খেয়ে আন্দোলনে চলে যায়। একটু পরই খবর পাই মেহেদীর শরীরে গুলি লাগছে। এর পর ছুটে যাই। পাগলের মতো হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটতে থাকি। কিন্তু কোথাও মেহেদীর দেখা পাচ্ছিলাম না। তিনি বলেন, সবাইরে কইতেছিলাম, আমার ছেলেকে একটু দেখান। আমি সারা দিন কান্দি, কিন্তু ছেলের দেখা নাই। ছেলের মুখ দেখার জন্য লোকজনের খবরে ঢাকা মেডিকেলে যাই। সেখানে পুলিশ, হাসপাতালের লোকজন বলে এখানে লাশ নাই। অনেক অনুরোধ করে লাশ রাখা ফ্রিজ খুলে দেখানো হলে আমি মেহেদীর দেখা পাই। মরছে আগের দিন আর পরদিন রাত পর্যন্ত ছেলের লাশ নিখোঁজ রাখা হয়। লাশ পেলেও শরীরে পচন ধরে, ময়নাতদন্ত শেষ করে লাশ নিয়ে যাই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আইনজীবী ব্যারিস্টার জাকিউল্লাহ বাহার তিন দফা দাবি জানিয়ে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ১৯ জুলাই পারভীন আক্তারের বড় ছেলে মেহেদী হাসান হত্যা মামলার এজাহারটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় এফআইআর হিসেবে নিতে হবে। প্রকৃত ছয়জন আওয়ামী লীগের গণহত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।