অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত মেয়েটি। ১৬ জানুয়ারি দুপুরে কেনাকাটা করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তার কোনো খোঁজ নেই। অবশেষে গতকাল কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ হাতিরঝিলে ফেলা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য থেকেই মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দুই ব্যক্তির নাম রাব্বি ও রবিন। তারা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন, পাঁচজন মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এতে তার মৃত্যু হলে লাশ হাতিরঝিলে ফেলে দেওয়া হয়।
কিশোরীটির বাবা জানান, ১৬ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে বাসায় কেনাকাটার কথা বলে বেরিয়ে যায়। আর ফেরেনি। ১৯ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি একটি মামলা করেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, ‘মেয়েটির বাবা থানায় জিডি করার পর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে মেয়েটির সন্ধান না পেয়ে তার মুঠোফোনের সিডিআর (ফোনকলের বিস্তারিত তথ্য) জোগাড় করি। সেখানে একটি সন্দেহজনক নম্বর পাই। সেটিই ছিল রবিনের মুঠোফোন নম্বর।’
রবিনের মুঠোফোনের সূত্র ধরে কীভাবে হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হলো সে বিষয়ে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণখান জোন) মো. নাসিম এ-গুলশান সাংবাদিকদের জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রবিনের পরিচয় হয়। রবিনের মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কিশোরীটির সঙ্গে ঘটনার দিনই (১৬ জানুয়ারি) তার প্রথম কথা হয়েছিল। রবিনের মুঠোফোনের সূত্র ধরে মহাখালীর একটি বাসার সন্ধানও পাওয়া যায়। এর মধ্যে গাজীপুর থেকে রবিনকে ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাব্বি মৃধা নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। এরপর রবিন ও রাব্বিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে গতকাল হাতিরঝিল থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটিকে হত্যা করার পর লাশ বস্তাবন্দি করা হয়। এরপর ১৬ জানুয়ারি ঘটনার দিন মধ্যরাতেই মহাখালী থেকে রিকশায় করে হাতিরঝিলের পুলিশ প্লাজার সামনের সেতুতে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে লাশটি হাতিরঝিলে ফেলে দেন রবিন। এরপর যে যার বাসায় চলে যান। হত্যাকান্ডের শিকার কিশোরীর বাবা ও মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরীর বাবা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর দক্ষিণখানে।
পুলিশ জানায়, রবিন পেশায় গাড়িচালক। রাব্বি মৃধারও নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। অভিযুক্ত অন্য তিনজনও রবিনের পূর্বপরিচিত।