জ্যাকেট দিয়ে বাসের সিটের জায়গা রাখাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগ ও আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বহনকারী সানন্দা বাসের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসের বাসে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ মারামারির সূত্রপাত। পরে বাসটি শহর থেকে ক্যাম্পাস গেটে পৌঁছানোর পর মারারিতে জড়ায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
এ ঘটনা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় এই দুই শিক্ষক আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বেলা ১১টায় বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলসহ অন্যরা প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনা তুলে ধরেন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের মারামারি হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে ছেড়ে আসা ডাবল ডেকার ‘সানন্দা’ বাসে আল ফিকহ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্যাকেট দিয়ে সিট দখল নেয়। পরে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সুমন অভ্র বাসে এসে জ্যাকেট উঠিয়ে সিটে বসে। এ নিয়ে সুমনের সঙ্গে আল ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে আল ফিকহের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিহাব ও রাকিব কথা বলতে গেলে সুমন রাকিবের শার্টের কলার ধরে। এতে হাতাহাতিতে সুমনের মুখে আঘাত লাগে। এ ঘটনায় সুমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানালে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাড়ি ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর প্রক্টরিয়াল বডি এসে উপস্থিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে আইন বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরাও এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গাড়ি আটকায়। এ সময় তারা সানন্দা বাসের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে আল ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থীও প্রধান ফটকে উপস্থিত হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। পরে রাত ১১টার দিকে আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, দুই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।