দাবির মুখে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে না সরকার। আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়ে কখনো বিশ্ববিদ্যালয় হয় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। অন্যদিকে, সরকারের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন তিতুমীর কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বারাসাত ব্যরিকেড টু নর্থ সিটি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া সোমবার (আজ) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিতুমীর কলেজ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাত ১১টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার বলেন, সোমবার বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি অব্যাহত থাকবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য তিতুমীর কলেজ শাটডাউন ঘোষণা করা হলো। সোমবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা এমনকি প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত তিতুমীরে কেউ ঢুকতে পারবে না। শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রদের আন্দোলন করা ভালো। তবে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে। কর্মসূচি যদি দিতেই হয় শিক্ষা কার্যক্রম ও জনদুর্ভোগ করে এমন আন্দোলন করা ঠিক নয়। সাত কলেজকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, তারা কাজ করছেন। দেশের মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকই গঠিত হয়েছে সবশেষ সাত বছরে, যা বিশ্বে এক অনন্য রেকর্ড। আন্দোলন করা ভালো, কিন্তু পরীক্ষাও তো দিতে হবে। যারা নিয়মিত ক্লাস করতে চায় তাদের ক্ষতি না করে এবং জনদুর্ভোগ যেন না হয় সেদিকে নজর রেখে কর্মসূচি দেওয়া উচিত। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সময় বেঁধে দিয়ে দাবি জানানো যৌক্তিক নয়। দাবির মুখে আমরা এমন কোনো অযৌক্তিক কিছু আর মেনে নেব না, যার সুদূরপ্রসারী ফলাফল আছে।
ব্যারিকেডের ঘোষণা : গতকাল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের পক্ষ থেকে ব্যারিকেডের ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘এখন মানে এখনই ব্যারিকেড। সবাই তাহবান্দে আসুন’, ‘দাবি আদায়ের এক পথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘সবাই আমতলী মুভ করেন, সড়ক ও রেল অবরোধ হবে’, ‘কাল নয় আজই ব্যারিকেড হবে, এখন মানে এখনই। সবাই দ্রুত চলে আসুন’। গতকাল সন্ধ্যায় মহাখালীর আমতলীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, সরকারের খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণ আমাদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য করছে। আমাদের আন্দোলনের ফলে সৃষ্টি হওয়া জনদুর্ভোগের জন্য আপনারা দায়ী। আন্দোলনকারীদের একজন সাদ উল হাসান সিফাত বলেন, আমরা জনগণের কাছে অত্যন্ত দুঃখিত, এটার জন্য আমরা সরকারকে দায়ী করব। সরকার এ বিষয়ে আলোকপাত করেনি। ২৮ বছর আন্দোলন করছি। বর্তমান আন্দোলন তীব্রতর রূপ পেয়েছে। সরকার সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। যার কারণে, জনগণের এ দুর্ভোগ হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো অনশন করছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা মিছিল, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নেয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ২৯ জানুয়ারি বিকাল থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন। এ সময় তারা সাত দফা দাবিও জানিয়েছেন। এরই মধ্যে রানা আহমেদ নামে অনশনরত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।