সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কারিকুলামে আইন-আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি ধারণামূলক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। একই সঙ্গে দেশের সব ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের লালন, শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, উৎসাহিতকরণ ইত্যাদি কার্যক্রমের জন্য স্থায়ী একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি বলেও কমিশন মনে করে। ধর্মীয় চর্চা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ থাকছে এই কমিশনের সুপারিশে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা কমিশনের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ৫ ফেব্রুয়ারি এ কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, দেশের সব ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের লালন, শিক্ষাদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, উৎসাহিতকরণ ইত্যাদি কার্যক্রমের জন্য স্থায়ী একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জরুরি। ওই প্রতিষ্ঠান কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নসহ বহুমাত্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার প্রতিটি স্তরের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন, নারী ও শিশু সংগঠনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে কমিশন সুপারিশ করেছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি নয়, সুস্থবোধ সম্পন্ন এবং উচ্চ নৈতিকতা সমৃদ্ধ একটি জনগোষ্ঠী তৈরির লক্ষ্যে দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কারিকুলামে আইন-আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি ধারণামূলক অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উক্ত পাঠ্যসূচিতে দেশের আইন-আদালত, বিচারব্যবস্থা, আইন মান্যকরণে উদ্বুদ্ধকরণ, আইন মেনে চলার সুফল, আইন মেনে না চলার কুফল, আইন লঙ্ঘনের শান্তি ইত্যাদি বিষয় সন্নিবেশিত থাকবে। শিশু কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রত্যেক শিশু যাতে নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিজ নিজ ধর্মের চর্চার প্রতি আগ্রহী হয়, সে জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।