লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ধবলসুতি গাটিয়ার ভিটা সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) স্থাপন এবং সার্চলাইট লাগানোর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ধবলসুতি বিওপির টহল দল বাধা দিলেও বাধা উপেক্ষা করে কাজ করে বিএসএফ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। গতকাল দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে পাটগ্রাম ধবলসুতি ঘাটিয়ার ভিটা সীমান্ত এলাকার প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ৪ নম্বর উপপিলারের কাছে বিএসএফ জিরো লাইন-এর কাছে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) স্থাপন এবং সার্চলাইট লাগানোর কাজ করে।
জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার ধবলসুতি এলাকায় বৃহস্পতিবার চাষাবাদের জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক পিলার ও যন্ত্র স্থাপন দেখতে পেয়ে বিজিবিকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বর্ডারগার্ড ৬১ বিজিবি (তিস্তা-২) ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোহার বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) দেখতে পায়। পরে কোনোকিছু না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে বিএসএফ কর্তৃক শূন্যরেখার মধ্যে এসব স্থাপনের প্রতিবাদ জানায় বিজিবি।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৮২৯ নম্বরের ৪ নম্বর উপপিলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ার ভিটা সীমান্তের শূন্য রেখার ৫০ গজ অভ্যন্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বিএসএফের ৯৮ ব্যাটালিয়নের ফুলকাডাবরী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সে দেশের নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়ে বৈদ্যুতিক পিলার (খুঁটি) স্থাপন করে।
স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতীয় বিএসএফ গায়ের জোর খাটিয়ে সীমান্তে জিরো লাইনে বৈদ্যুতি খুঁটি দিয়ে সার্চলাইট স্থাপন করছে। পাশাপাশি রাতের বেলা তারা জিরো লাইলে এসে পাহারা জোরদার করছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ধবলসুতি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মাহবুব বলেন, ভারতীয় বিএসএফ বৃহস্পতিবার বিকালে একটি বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপন করে আমরা তাদের বাধা দিই। তারা বাধা উপেক্ষা করে পিলার বসিয়ে চলে যায়। পরে আমরা তাদের ডাক দিলে তারা শোনেনি। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের জন্য আহ্বান করা হলে সাড়া দেয়নি বিএসএফ।