পর্দা নেমেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৯তম আসরের। গতকাল বিকাল ৫টায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন আহমেদ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে মেলায় থাকা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর আগে ১ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মাসব্যাপী মেলার সমাপনী সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় কানায় কানায় ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। ছিল শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ধুম।
মেলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়। আগে বাণিজ্য মেলা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের খেলার মাঠে হতো। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণ মেলার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এবারের বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, হংকং, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। মেলায় ৯টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ ছাড়াও এবার দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য দুটি হলের বাইরে মিলে মোট ৩৬১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পুরস্কার, ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় পুরস্কার এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে তৃতীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সরেজমিন দেখা যায়, দুপুরের পর থেকে ঢাকাসহ এর আশপাশ এলাকা থেকে মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের সমাগম ঘটতে থাকে। বিকাল শেষে সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের ভিড় রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে।