খুলনায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কৃত্রিমসংকট তৈরি করছেন বিক্রেতারা। এতে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে বিপাকে পড়ছেন রোগীরা।
জানা যায়, ‘ফেব্রুয়ারির শুরুতে আরেক দফা ওষুধের দাম বাড়ছে’- এমন খবর আগেভাগে ফার্মেসিগুলোয় জানিয়ে দিয়েছেন ওষুধ কোম্পানির প্রতিধিরা। কোনো ক্ষেত্রে ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। ফলে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ওষুধের মজুত গড়ে তুলছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। কৃত্রিমসংকট ও দাম নিয়ন্ত্রণে ঔষধ প্রশাসন বা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পদক্ষেপ না থাকায় ইচ্ছামতো দাম নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
সরেজমিন হেরাজ মার্কেট, ময়লাপোতা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফার্মেসিগুলোতে দেখা যায়-ক্রেতার কাছ থেকে ওষুধের বাড়তি মূল্য নিচ্ছেন বিক্রেতারা। দুই সপ্তাহ ধরে খুলনার ফার্মেসিগুলোতে ফ্লুবেক্স-৫০০ ক্যাপসুল, টোরাক্স ১০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট, অ্যানাডল এসআর ১০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট, ফ্যামোট্যাক ২০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট নির্দিষ্ট মূল্যের তুলনায় প্রতি পাতায় ৫০-১০০ টাকা হারে বেশি নেওয়া হচ্ছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ন্যাট্রিলিক্স এসআর ১.৫ মিলিগ্রাম ৩৩০ টাকার বদলে ৪০০ টাকা, হৃদরোগে ভাস্টারেল এমআর ট্যাবলেট ৭২০ টাকার বদলে ৮০০ টাকা, রসুভা ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট ৬০০ টাকার বদলে ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দাম না দিলে ‘ওষুধের সরবরাহ নেই’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালে ভ?্যাট, ট?্যাক্স বৃদ্ধির অজুহাতে জীবনরক্ষাকারী অনেক ওষুধের দাম ৩৫-৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ওষুধ ক্রেতা এম মাহবুবুর রহমান বলেন, বাড়িতে অসুস্থ বয়স্ক মা ও শিশু সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ওষুধ কেনা বাবদ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা রাখতে হয়। মা কয়েক বছর ধরেই হৃদরোগ, রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। ওষুধের কৃত্রিমসংকট ও দাম বৃদ্ধিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হেরাজ মার্কেটের হাসান ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মো. রাজু আহমেদ বলেন, ফার্মেসিতে ওষুধের সংকট নেই। কিছু ওষুধ কোম্পানি থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ নিয়ে কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি জানিয়েছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিমসংকট সৃষ্টি বা দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসনের নিয়মের তোয়াক্কা করছে না ফার্মেসি বা ওষুধ কোম্পানিগুলো। সিন্ডিকেটের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব অভিযান পরিচালনার আশ্বাস দেন।