সিলেটের প্রভাবশালী নেতারা পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। কাটাচ্ছেন আয়েশি জীবন। সেখান থেকে দেশের কর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন। বিপদে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিপদগ্রস্ত কর্মীদের আরও বিপদে ফেলতে পালিয়ে যাওয়া নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। গুজব ছড়িয়ে আত্মগোপনে থাকা কর্মীদের রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করছেন। দলীয় কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মিলছে না বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কর্মীরা মনে করছেন, বিদেশে বসে নেতারা তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে আরেক দফা নিজেদের প্রভাব দেখানোর পাঁয়তারা করছেন।
শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারত চলে গেছেন- এমন সংবাদ আসার পরই দলটির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী গা ঢাকা দেন। সিলেটের বড় নেতাদের বেশির ভাগ সীমান্ত দিয়ে ভারত পালিয়ে যান। পরে কেউ কেউ সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছান। আর কেউ থেকে যান ভারতে। শুরুতে পালিয়ে যাওয়া নেতারা নীরব ছিলেন। দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন। এক মাস ধরে ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ও অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে তাদের নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়। ফেব্রুয়ারিজুড়ে দল ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করতে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। কোনো কোনো নেতা নিজেদের বলয়ের কর্মীদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও খুলেছেন। বিদেশে বসে সিলেটের যেসব নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি তৎপরতা চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- সিসিকের অপসারিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রণজিৎ সরকার এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোবাশ্বির আলী, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম তুষারসহ কয়েক ডজন নেতা। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অবিবেচনাপ্রসূত স্ট্যাটাস ও ভিডিও বার্তায় সিলেটের নেতা-কর্মীরা যারপর নাই বিরক্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘যারা দলের সুবিধাভোগী ছিলেন তারা ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়েছেন। তারা বিদেশের মাটিতে আয়েশি জীবনযাপন করছেন। আর যারা দল ক্ষমতায় থাকতেও বঞ্চিত ছিলেন তারা এখন দেশে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে। অনেকে ধীরে ধীরে আত্মগোপন থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছেন। এ সময়ে বিদেশের মাটিতে বসে কতিপয় নেতা নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন। তাদের তৎপরতার কারণে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিপদ বাড়তেই আছে।’
ভারতে অবস্থানরত শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি তাদের যোগাযোগ হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন, মামলা-হামলার শিকার হচ্ছেন- এরপরও তারা বেশ চাঙা ও উজ্জীবিত আছেন।