ধুঁকছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দেশের একমাত্র জাহাজভাঙা শিল্প। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ ব্যাংক সুদের হার, জাহাজ আমদানিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানান প্রতিবন্ধকতা শেষ করে দিচ্ছে ভাসমান লোহার খনিখ্যাত এ খাত। এক সময় এ অঞ্চলে ২ শতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড চালু থাকলেও বন্ধ হতে হতে বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২২টিতে। এ ধারা চলতে থাকলে অচিরেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এ অঞ্চলের জাহাজভাঙা শিল্প।
সীতাকুণ্ডের লালবাগ শিপ ব্রেকিংইয়ার্ড স্বত্বাধিকারী আবুল হাসেম বলেন, ‘দুঃসময় চলছে। উচ্চ ব্যাংক সুদের হার, স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিতে আমলাতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বন্ধ হয়ে যাবে চালু থাকা বাকি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আগের মতো ব্যাংক সুদ সিঙ্গেল ডিজিট করতে হবে। শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোকে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করতে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় দিতে হবে। ব্যাংক ঋণ এবং এলসি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।’ বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রি-সাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এক সময় ২ শতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড চালু ছিল সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকায়। যার মধ্যে আমাদের সদস্যভুক্ত ১৬০টি। বর্তমানে ২২টির মতো চালু আছে। জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত সাগর উপকূলে গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র জাহাজভাঙা শিল্প। দেশের নির্মাণশিল্পের অন্যতম উপাদান লোহার সিংহভাগ জোগান হতো এ খাত থেকে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয় কয়েক লাখ মানুষের। এ খাত থেকে প্রতি বছর বার্ষিক দেড় থেকে ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করত সরকার। স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করতে প্রত্যাশিত এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, তিন মিলিয়ন ডলারের ওপর জাহাজ আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমতির বাধ্যবাধকতা, জাহাজ আমদানিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ নানা কারণে শিল্প হুমকির মুখে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে ঋণের বিপরীতে উচ্চ সুদের হার। কয়েক মাস আগেও ব্যাংক সুদের হার ছিল ৯ শতাংশ। হঠাৎ করে সুদের এ হার বৃদ্ধি করে ১৫.৫০ থেকে ১৬ শতাংশ করেছে ব্যাংকগুলো। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্যাপ জাহাজের দাম বাড়লেও দেশের স্ক্র্যাপ লোহার দাম নিম্নমুখী। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জাহাজ কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা। অথচ দেশীয় বাজারে স্ক্র্যাপ লোহার কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা।