রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাকপ্রতিবন্ধী দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিশুদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ী গোলাপবাগ এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে রেজাউল করিম নামে এক অটোরিকশা চালককে ধরে পুলিশে দিয়েছে প্রতিবেশীরা। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুদের মা বলেন, তিনি ওই এলাকায় রাস্তায় পিঠা বিক্রি করেন এবং তার স্বামী খিচুড়ি বিক্রি করেন। ঘটনার সময় তারা দুজনই কাজে ছিলেন। দুই শিশু বাড়িতে ছিল। বুধবার একই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া রেজাউল তাদের বাসায় ঢুকে দুই মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে তার শিশুসন্তানদের ডাকচিৎকারে প্রথমে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যায়। এ সময় ঘরে ঢুকে রেজাউলকে নগ্ন অবস্থায় দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। তখন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে লোক মারফত খবর পেয়ে তারা বাসায় ছুটে যান। বাসায় গিয়ে দুই মেয়েকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, তারা বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। তাদের তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বয়স ১৬ এবং মেজো মেয়ের বয়স ৮। তারা দুজনই বাকপ্রতিবন্ধী। এ ছাড়া ছোট মেয়েটি সুস্থ। অভিযুক্ত রেজাউল আগে তৃতীয় তলায় তাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন। রেজাউলের চলাফেরা এবং কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় বাড়িওয়ালার মাধ্যমে তাকে সরিয়ে বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাটে দেন। এরপরও বাসা ফাঁকা পেলে রেজাউল বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাসায় যেতেন।
ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির সমন্বয়কারী ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বুধবার মধ্যরাতে শিশু দুটিকে পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আজকে (বৃহস্পতিবার) তাদের বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এখনো রেজাল্ট আসেনি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে- তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশুরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা খুবই ভয় পাচ্ছে। নিয়মিত তাদের কাউন্সেলিং করাতে হবে।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জসীম উদ্দীন বলেন, রেজাউল করিম নামে ওই ব্যক্তি শিশু দুটিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজনই আটকের পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একটি মামলা করেছে। সেই মামলায় রেজাউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।