রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে অবস্থান নেন তারা। এর আগে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা। পরে শিক্ষা ভবনের সামনে গেলে আটকে দেয় পুলিশ। এরপর সেখানেই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দাবিদাওয়া নিয়ে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাক্ষাৎ না পেয়ে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে সচিবালয় থেকে বের হয়ে আসার কথা জানিয়েছেন প্রতিনিধিদলের একজন চাকরিচ্যুত এএসআই সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা এখন সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা জানান, বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। নির্বাহী আদেশে চাকরিতে পুনর্বহাল না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই দাবিতে গত বুধবার চাকরিচ্যুত পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।
এর আগে গত বছরের ১৮ আগস্ট চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা। দিনভর রাস্তা আটকে অবস্থান শিক্ষার্থীদের : সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে দিনভর কর্মসূচি পালন করেছেন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। একই দাবিতে গতকাল তারা অনশনও করেন। অনশন পালনকালে বিকালে তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থীরা হলেন- কলেজের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রানা আহমেদ, একই শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের আমিনুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। দাবি আদায়ের এ কর্মসূচির কারণে মহাখালীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে।
গত বুধবার বিকালে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশন’ শুরু করেছিলেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি জানান। এসব দাবির মধ্যে ছিল- তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা, শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন দাবি। একই দাবিতে গতকালও সকালে তিতুমীর কলেজ গেটে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
বুধবারের অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে গতকাল সকালে অনশনে আরও কয়েকজন যোগ দেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা কলেজের প্রধান ফটকের সামনের গুলশান-মহাখালী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে দুপুর থেকে এ সড়কে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এতে রাস্তার দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন রাজধানীর বাড্ডা, মগবাজার, গুলশান, বনানী, কাকলীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে গতকাল মহাখালী থেকে গুলশান-১ গামী রাস্তা বন্ধ ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত।
শিক্ষার্থীরা জানান, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ ৭ দফা দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সাত কলেজের সঙ্গে তারা কোনো যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় চান না। তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় নামে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় চান তারা।