অনেক দিন ধরেই ঝুলে আছে প্রশাসনের দুই স্তরের পদোন্নতি। উপসচিব ও যুগ্মসচিব পদোন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধু আলোচনায়ই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি নিয়ে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) বৈঠকও হচ্ছে না নিয়মিত। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে চলতি জানুয়ারিতেই দুটি ব্যাচের পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনের নিয়মিত ব্যাচ ২৪ থেকে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্মসচিব এবং নিয়মিত ব্যাচ ৩০ থেকে পদোন্নতি পেয়ে উপসচিব হওয়ার কথা। সে হিসেবে দুই মাস আগেই দুটি ব্যাচের তালিকাসহ লেফটআউটদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে একাধিক এসএসবি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসএসবি বৈঠকের সেখানে ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব করার বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ৩০ ব্যাচের তালিকা প্রস্তুত করে এসএসবির জন্য প্রস্তুত করলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। জানুয়ারির মধ্যে দুটি ব্যাচের পদোন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও তা আলোর মুখ না দেখায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) মো. ওবায়দুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছিলেন, এই কর্মকর্তারা বহু আগেই পদোন্নতির সব ধরনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। দ্রুতই দুটি ব্যাচের পদোন্নতির দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পদ শূন্য থাকলে দেওয়া যায়। পদের বাইরে বাড়তি পদোন্নতি দেবে কি না সেটাও নতুন সরকারের বিষয়। এখন এই সরকার কী চিন্তাভাবনা করছে সেটাও দেখতে হবে। বর্তমান সরকার এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। পদ খালি না থাকলে অধিকার হিসেবে দবি করা যাবে না, এটা সরকারের দয়া। এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, গত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান ২২ জানুয়ারি থেকে ব্যক্তিগত সফরে পর্তুগাল থাকার কারণেও এসএসবি বৈঠক হয়নি। তা না হলে এর মধ্যে একাধিক বৈঠক হলে কমপক্ষে একটি ব্যাচের পদোন্নতি হয়ে যেত বলে জানায় সূত্রটি। জনপ্রশাসন সচিব দেশে ফেরার পর অন্য সদস্যদের সময়সাপেক্ষে দ্রুতই একাধিক বৈঠক হবে বলেও জানা গেছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে দুটি পদোন্নতি কাজ শেষ করতে চায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে মাঠ প্রশাসনের যারা ২৪ ব্যাচের ডিসির দায়িত্বে আছেন তাদের পদোন্নতির পর জেলা থেকে উঠিয়ে আনা হবে। সেখানে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। জানা গেছে, ইকোনমিক ক্যাডারের নতুন ৫৪টি পদসহ যুগ্মসচিবের অনুমোদিত পদ প্রায় ৫০০। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জিইএমএস তথ্য অনুযায়ী, এসব পদে কর্মরত আছেন ৮৪৯ জন। যুগ্মসচিব পদোন্নতি পেতে যাওয়া প্রশাসনের নিয়মিত ২৪ ব্যাচ ২০০৫ সালের ২ জুলাই চাকরিতে যোগ দেন। এই ব্যাচের শুরুতে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৩৬ জন কর্মকর্তা যোগ দিলেও চাকরির ২০ বছর পর উপসচিব হয়েছেন ৩১৮ জন। ফলে বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাসহ এ ব্যাচের পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ৩৩৫ জন। পাশাপাশি অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাসহ যুগ্মসচিব হতে এসএসবি টেবিলে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা রয়েছেন তালিকায়। যুগ্মসচিব হওয়ার জন্য উপসচিব পদে অন্তত ৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। কিন্তু এই ব্যাচের কর্মকর্তারা উপসচিব পদে কাজ করছেন ৬ বছরের বেশি।
আর বিসিএস ৩০ ব্যাচের সিনিয়র সহকারী সচিব পদের কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে। প্রশাসনে ৪৩০টি সুপারনিউমারারি পদসহ উপসচিবের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ৪২৮টি থাকলেও কর্মরত আছেন ১ হাজার ৫৯৭ জন। ৩০তম ব্যাচের ২৭৭ জন আর বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের ২৫ জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এই ব্যাচে। তবে পদোন্নতির যোগ্য ২৯০ জনের মতো কর্মকর্তা। পাশাপাশি অন্য ক্যাডার থেকেও উপসচিব পদোন্নতির যোগ্য দুই শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। পদোন্নতি বিধিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৫ বছর চাকরিসহ কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মতে, চাকরির এক যুগ পার হলেও এখনো উপসচিব পদোন্নতি শুরু হয়নি তাদের। এতে কাজে একটা প্রভাব পড়ছে। সবাই পদোন্নতির বিষয়ে দুশ্চিন্তাও করছেন বলে জানান ৩০ ব্যাচের একাধিক কর্মকর্তা। এদিকে শূন্য পদ না থাকলেও পদোন্নতির পর পাওয়া বেশির ভাগ যুগ্মসচিবকে আগের কর্মস্থলে ইনসিটু হিসেবে থাকতে হবে বলেও জানা গেছে।