সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যাশিত মহার্ঘভাতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তাহলে কি মহার্ঘভাতার বিষয় থেকে সরকার সরে আসছে? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘মহার্ঘভাতার ঘোষণা কে দিল? কে দিয়েছে ঘোষণা আমি জানি না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব, দেব কি দেব না। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসুক তারপর দেখা যাবে।’ অন্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা তো এখনো ঘোষণা দিইনি। আমি তো এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ জানা যায়, সম্প্রতি সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে মূল বেতনের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা দেওয়ার খসড়া প্রস্তুত করেছিল অর্থ বিভাগ। তবে এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীর বাড়তি ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। অর্থ বিভাগের হিসাবে এটি বাস্তবায়নে এক অর্থবছরে বাড়তি খরচ হবে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের খসড়া প্রস্তাবে ব্যয় কিছুটা কমাতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৫ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল। আর ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ এ পরিমাণ টাকার সংস্থান করে সংশোধিত বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তবে সরকার এ উদ্যোগ নেওয়ার পরই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকরা বলছিলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ সামষ্টিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যাপক কমেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ অবস্থায় তারা মহার্ঘভাতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈঠকে চাল, চিনি, মসুর ডাল, সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জিনিসগুলা যেন রোজার আগে বা রোজা চলাকালে, এমনকি রোজার শেষেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।’