হজ ও ওমরাহ করতে যাওয়া যাত্রীসহ বিদেশগামীদের জন্য দেশের ৮০ কেন্দ্রে মেনিনজাইটিস টিকা দেওয়া হবে। তবে ওমরা ও হজযাত্রীদের নিজের টাকায় এ টিকা কিনতে হবে। প্রতি ডোজ টিকার খুচরা মূল্য ১ হাজার টাকা। উল্লেখিত কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার পরই মিলবে টিকা সনদ। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকার নয়টি সরকারি হাসপাতাল। ওমরাহ ও ভ্রমণ ভিসায় সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য মেনিনজাইটিস টিকা বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি সরকার।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ শাখার (সিডিসি) লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘মেনিনজাইটিস টিকা দেওয়া এবং পরবর্তীতে সেটার জন্য সনদ দিতে আমরা দেশের সবগুলো সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ ৮০টি কেন্দ্র ঠিক করেছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ওমরাহ করতে যাওয়া যাত্রীরা তাদের কাছাকাছি কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবেন।’ জানা যায়, মেনিনজাইটিস টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ করছে দেশের একমাত্র টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড’।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, সচিবালয় ক্লিনিক এবং কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেনিনজাইটিসের টিকা পাওয়া যাবে। ঢাকার বাইরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, বগুড়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, দিনাজপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এই টিকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া দেশের সব সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জেলা হাসপাতালে মেনিনজাইটিস টিকা পাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় গমনকারী যাত্রীরা নিজের টাকায় টিকা সংগ্রহ করবেন। এরপর নির্ধারিত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা নেবেন। প্রতিষ্ঠানগুলো যাত্রীদের টিকা সনদ দেবে। এ ছাড়া সনদগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমআইএসএর ভ্যাক্স ইপিআই সিস্টেমে আপলোড করবেন।
জানা যায়, দেশে মেনিনজাইটিস টিকার একমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১৭ হাজার টিকা সরবরাহ করেছে। আগামী মার্চের মধ্যে আরও ৪০ হাজার টিকা উৎপাদনের আশা করছেন তারা। এ ছাড়া কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এই টিকা আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি পর্যায়ে এই টিকা সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।