বাংলা একাডেমির সংস্কার, ফ্যাসিবাদের অপসারণ ও পুরস্কার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বাংলা একাডেমি ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ লেখক সমাজ ও জাতীয় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নেতারা। গতকাল এই ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিক্ষুব্ধ লেখক কবি সমাজের আহ্বায়ক আবিদ আজাদ, কবি শামস মুসা, কবি মাহবুব হাসানসহ বিক্ষুব্ধ লেখক সমাজ এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নেতারা।
এ সময় আবিদ আজাদ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। অথচ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪-এর তালিকায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের আধিক্য লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পুরস্কার বাতিল ও পুরস্কার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
যারা ফ্যাসিবাদের দালালি করে এসেছেন তাদের ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে কবি মাহবুব হাসান বলেন, ‘নাটকের ব্যক্তিকে সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। যারা শহীদদের রক্ত নিয়ে কটূক্তি করে তাদেরও পুরস্কার দেওয়া হয়। সেটি কেমন পুরস্কার তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কয়েকজনের পুরস্কার স্থগিত করা হয়েছে। আমরা চাই তাদের পুরস্কার বাতিল করা হোক।’ কবি শামস মুসা বলেন, ‘বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কৃতিই সার্বভৌমত্ব। যদি এর সঙ্গে তামাশা করেন, প্রহসনের খেলা খেলেন, আমরা অবশ্যই সেটি শক্ত হাতে প্রতিহত করব। যেভাবে আমরা স্বৈরাচারের দোসরদের প্রতিহত করেছিলাম।’
উল্লেখ্য ২৩ জানুয়ারি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২৪ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুরষ্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হওয়ায় ২৫ জানুয়ারি বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য ঘোষিত নামের তালিকা স্থগিত করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।