বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গা সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার যোগদান নিয়ে করা এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও উপ প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর।
প্রেস সচিব জানান, দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় প্রধান উপদেষ্টার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা ঐতিহাসিক সফর ছিল। সভায় কমপক্ষে ৪৭টি অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এরপর সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশ ফিরে এসেছে। এবারের সফরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন।’
রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও দ্রুত নির্বাচন চাইছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, ব্যবসায়ীদের দেখা উচিত আমরা তাদের ঠিকমতো ব্যবসার পরিবেশ দিতে পারছি কি-না। ব্যবসায়ীদের খুব ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ দিয়েছি। বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইছেন।’ এক সাংবাদিক জানতে চান, যখন কারখানা বন্ধ ও গাজীপুর, আশুলিয়ার মতো জায়গায় শ্রম অসন্তোষ বাড়ছে তখন বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা কতটা যৌক্তিক? জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আজকের একটা পত্রিকায় দেখলাম যে, ৫১টি ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে। ফ্যাক্টরি বন্ধ হবে, খুলবে, এটা একটা ন্যাচারাল প্রসেস। সরকার দেখে যে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে কি-না।’ বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যেসব ফ্যাক্টরির মালিক পালিয়ে গেছেন, তাদের পুরো দায়টা আমাদের ওপর দিয়ে গেছেন। ব্যাংকগুলো থেকে চুরি করে যা যা ছিল সব নিয়ে পালিয়ে গিয়ে এই লোকগুলোর বেতন না দিয়ে ওনারা ওখানে মজা দেখছেন।’ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাইরে ইউএসএআইডির সহায়তা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশে এটা বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই সহায়তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত হয়েছে। আর আমাদের দেশে সত্যিকারার্থে অনুদান-সহায়তা এমনিতেই অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, গত সাত বছর রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ইউএসএআইডি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। আমরা আশা করছি তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী নতুন করে দেশে ঢুকেছেন বলেও জানান তিনি।
‘প্রফেসর ইউনূস ফিরবেন না, সরকারের উপদেষ্টারা পালিয়ে গেছেন’- এ প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, ‘যারা পালিয়েছে তারাই এই প্রচারণা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা পালায় না বলে পালিয়েছেন। ওনার চ্যালা-চামুন্ডারা এগুলো করছে।’ যারা যারা গুজব ছড়াচ্ছে- এটা আইনের ভায়োলেশন হলে অবশ্যই আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, আমাদের পুরো ফুটেজ দেখে তারপর মন্তব্য করতে হবে।
পাচার করা টাকা ফেরত আনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনা খুবই স্লো প্রসেস। এটার জন্য যত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেই পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে। সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে টাস্কফোর্স, অ্যাসেট রিকভারি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।
১১টা টিম কাজ করছে। সারা বিশ্বের টপ টপ এজেন্সির সঙ্গে কথা বলছি। পাচার করা টাকা ফেরত আনা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকির পরও মাজারে হামলা হচ্ছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ মাজারে যান। আমরা তাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যারা মাজারে অ্যাটাক করবেন, তাদের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। কোনো মাজারে হামলা আমরা টলারেট করব না।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ইন্টারভিউ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল হচ্ছে বাংলাদেশের কসাই। বুচার অব বাংলাদেশ। বাংলাদেশে এই ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়েদের, শিক্ষার্থীদের, শ্রমিক, রিকশাওয়ালাকে যে নির্দয়ভাবে খুন করা হয়েছে তার অন্যতম কসাই হচ্ছে সে। তাকে যারা প্ল্যাটফরম দিচ্ছে, তার নিউজ যারা করছে, তাদের মানটা আপনি বোঝেন। এটা একটা বড় রকমের আন্তর্জাতিক প্রপাগান্ডা। পৃথিবীর কেউ কোনো কসাইকে তার প্ল্যাটফরম দেয় না।