নরসিংদীর রায়পুরায় জমি নিয়ে বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন।
গতকাল সকালে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দিঘলীয়াকান্দি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন আলম (১৯)। তিনি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দিঘলীয়াকান্দি গ্রামের জহর আলীর ছেলে। আলম সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হক সরকারের সমর্থক ছিলেন। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি বলেছেন, সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) বলছে, দুজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নরসিংদী সদর হাসপাতালে শুধু আলমগীর হোসেন আলমের লাশই পাওয়া গেছে। অন্য নিহত আলী আহমেদের লাশ হাসপাতালে আসেনি।
ফলে এই নিহতের বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুল হক সরকার ও বর্তমান চেয়ারম্যান রাতুল হাসানের সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ওই সব সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তির নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা ও পাল্টা মামলাও হয়েছে।
ঘটনার জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষ টেঁটা বল্লম, দা, ছুরি ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন আশরাফুল চেয়ারম্যানের সমর্থক আলমগীর হোসেন আলম। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমানসহ নরসিংদী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা। নরসিংদী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) কর্মকর্তা হাসান মাহামুদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এদের মধ্যে একজনের নাম আলমগীর হোসেন আলম ও অন্যজন আলী আহমেদ বলে শুনতে পেয়েছি।