চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেওয়া ইবতেদায়ি শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে এক নারীসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন (৩৫), ফরিদুল ইসলাম (৩০), আমিনুল (৩৫), মিজানুর রহমান (৩৫), বিন্দু ঘোষ ও মারুফা আক্তার (২৫)।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দীন মাহমুদের সঙ্গে দেখা করতে সচিবালয়ে যান। জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশের আলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো জাতীয়করণের ঘোষণাসহ ছয় দফা দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট। গতকাল সকালে তারা স্মারকলিপি দিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেন। এ সময় জাতীয় জাদুঘরের সামনে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে তাঁদের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও জলকামান থেকে পানি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় শিক্ষকরা পাবলিক লাইব্রেরি এবং চারুকলার বিপরীতে অবস্থান নেন। এতে করে রাজু ভাস্কর্য থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তার এক পাশ বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ শুরু থেকেই শিক্ষকদের রাস্তা খালি করতে বলছিল। একপর্যায়ে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ এবং একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছিলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা না হলে এখানেই তারা অবস্থান নেবেন।
ঢাকা মেডিকেলে ঝালকাঠি থেকে আসা দপদপিয়া শেখবাগল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি করে আসছিলাম। দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে স্মারকলিপি নিয়ে যাওয়ার পথে শাহবাগ এলাকায় পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের এক নারীসহ ছয়জন মাদরাসার শিক্ষক আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। শাহবাগ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। ইবতেদায়ি শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- ১) স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিবন্ধন স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার করা ২) রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোডবিহীন মাদরাসাগুলো বোর্ড কর্তৃক কোড নম্বরে অন্তর্ভুক্তকরণ ৩) স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার আলাদা নীতিমালা ৪) পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, বেতন-ভাতা, নীতিমালা-২০২৫ অনুমোদন ৫) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অফিস সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া ও ৬) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি খোলা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া।