৪৭ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালান কুমিল্লার লাকসামের মমতাজ মিয়া। গত জুলাই মাসে দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে ফিরে এলেও এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। অর্থের অভাবে পারছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে।
মমতাজ মিয়ার বয়স ৭৩। ১৯৭০ সালে তিনি মেট্রিক পাস করেন। তৎকালীন সময়ে মেট্রিক পাস করে ভালো চাকরির সুযোগ থাকলেও পত্রিকা বিক্রির নেশায় ধরে তাকে। রোদবৃষ্টি ও ঝড়-তুফান উপেক্ষা করে তিনি পায়ে হেঁটে দূরদূরান্তে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন। তিন মেয়ে, একমাত্র ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মমতাজ মিয়ার সংসার। অর্থকষ্টের কারণে সন্তানদের ঠিকমতো পড়ালেখা করাতে পারেননি। পত্রিকা বিক্রি করে দিনে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে কোনো রকম চালান সংসার।
প্রযুক্তির এ যুগে মমতাজ মিয়ার আগের মতো পত্রিকা বিক্রি নেই। তাই আশানুরূপ উপার্জনও নেই। এরই মধ্যে গত ২২ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় লাকসামের একটি ক্লিনিক থেকে পত্রিকা বিক্রির টাকা নিয়ে ফেরার পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসে। বাঁ হাত ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মাথা, মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। তখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সপ্তাহখানেক ভর্তি থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর থেকে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। প্রতি মাসে শুধু ওষুধ বাবদ ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয় তাঁর। কিন্তু টানা পাঁচ মাস পত্রিকা বিক্রি করতে না পারায় চিকিৎসায় অনেক টাকা ঋণ করে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নিজের দুরবস্থা প্রসঙ্গে মমতাজ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘শৈশব থেকে কোনো চাকরি, ব্যবসা না করে পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিক্রি করে আসছি। নেশা থেকে এটি আমার পেশাতে পরিণত হয়েছে। ৪৭ বছর থেকে পত্রিকা বিক্রি করছি। যা উপার্জন হতো তা দিয়ে কোনোভাবেই পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করছিলাম। আকস্মিক দুর্ঘটনায় আজ আমি বড়ই অসহায়। চিকিৎসায় অনেক টাকা ঋণ করেছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে আমি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই।’
এ ব্যাপারে লাকসাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার সাংবাদিকতা শুরুর দীর্ঘ সময় থেকে দেখে আসছি মমতাজ মিয়া পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন। তিনি একজন সহজসরল মানুষ। বয়সের ভারে আজ তিনি বড়ই ক্লান্ত। এরই মধ্যে সাত মাস আগে দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না।’