বাবার বা নিকটাত্মীয়দের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুবাদে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন কয়েকজন উদীয়মান রাজনীতিক। বিশেষ করে বাবা-চাচার পথ অনুসরণ করে অনেকে এখন আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘রাজনীতিতে তরুণদের আগমন ভালো দিক। আমাদের বাবারা রাজনীতি করেছেন গণমানুষের জন্য। তাদের কাছ থেকে শৈশবকাল থেকে জনসেবা, দেশসেবার ব্রত দেখেছি। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তবে উত্তরাধিকার হিসেবে রাজনীতিতে এলেও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করে আজকের পর্যায়ে এসেছি। বিগত সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনীতিতে উত্তরাধিকার সংস্কৃতি পুরনো। তবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সক্রিয় উত্তরাধিকাররা তৃণমূলের রাজনীতি করে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। দলের ক্লান্তিলগ্নে বিএনপির রাজনীতি করে ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর নাছিরের সন্তান মীর হেলাল, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর ও মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।
দলটির বিভিন্ন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে এখন ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনের অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত। বাবা মীর নাছির উদ্দীনের (বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান) হাত ধরে রাজনীতিতে এলেও তাঁর উত্থান হয়েছে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য থেকে সাংগঠনিক দক্ষতায় পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ যুক্ত আছেন বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনে। চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যে কয়েকজন তরুণ আছেন তার মধ্যে সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে মীর হেলালের নাম। ২০১৫ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির পর আলোচনায় আছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বাবার ফাঁসির পর রাজনীতিতে নেমেই আলোচনার কেন্দ্রে আসেন তিনি। ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ঘোষিত বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হওয়ার পর পুরোদমে সক্রিয় মাঠের রাজনীতিতে। অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম ইসরাফিল খসরু। বিএনপির গবেষণা সেলে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করেছেন। আমির খসরু জাতীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকলেও সপ্তাহে দু-তিন দিন চট্টগ্রামে থেকে নেতা-কর্মীদের খবর নিয়েছেন ইসরাফিল। বর্তমান বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল চট্টগ্রামের তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত নারীনেত্রী সাকিলা ফারজানা। বাবার আদর্শ ধারণ করে সাকিলা আইনি সেবা দিয়ে বিগত সময়ে বেশ আলোচনায় ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক পদ ধরে রাউজানে বেশ সক্রিয় সামির কাদের চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। তরুণদের মধ্যে তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। একইভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন জহিরুল ইসলাম আলমগীর ও মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পা। আলমগীর বাবার জীবদ্দশা থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়, ছিলেন যুবদল ও বিএনপির নানা পদে। বর্তমানে জেলা বিএনপির সদস্য তিনি। ছোট ভাই পাপ্পাও সক্রিয় জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। এদিকে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসেন সাঈদ আল নোমান। বাবার সঙ্গে নিয়মিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।