দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের উত্থানের পক্ষে বিচার বিভাগের ভূমিকা রয়েছে। এটা বারে বারে প্রমাণিত হয়েছে।
পরবর্তীতে বিচার বিভাগের সহযোগিতায় ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকানো গেছে। আমি আশাবাদী, আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাব। কারণ
ফ্যাসিবাদের পতন ও বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়েছে। গতকাল ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তারিক এজাজের আদালতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যা ও ষড়যন্ত্র’ মামলার সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আদালত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, এ মামলা যখন করা হয় তখন জেলে বন্দি ছিলাম। এ মামলার সঙ্গে কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। এই মামলা করা হয়েছে আমেরিকার ঘটনা নিয়ে এবং ২০০৫ সালের পর আমি আমেরিকা যাইনি। অথচ এ মামলার সময় দেখানো হচ্ছে ২০১২ সালে। এ সময় আমি আবার পত্রিকা অফিসে বন্দি ছিলাম।
পত্রিকা অফিস পুলিশ, র?্যাব ঘিরে রেখেছিল। এটাতে প্রমাণিত হলো একটা রাষ্ট্র কতটা নির্মম হতে পারে মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করতে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আমার দেশের যে লড়াই, সম্পাদক হিসেবে আমার যে লড়াই সেটা অব্যাহত থাকবে। আমার দেশের সম্পাদক বলেন, এই মামলাটি হয়েছিল শেখ হাসিনার ছেলেকে নিয়ে, এমন শতাধিক মামলা আমার বিরুদ্ধে আছে। শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে টিউলিপকে নিয়ে ৩৬টি মামলা রয়েছে। এরকম একটি মামলাতেই আমার ওপর হামলা করা হয়েছিল। আমি আল্লাহর রহমতে জীবিত আসতে পেরেছি। তবে ধরে নিচ্ছি এই যে লড়াই, যতদিন জীবিত আছি এই লড়াই চালিয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে রাজধানীর পল্টনে বসে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ডিবি পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় এ মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানসহ পাঁচজনের সাত বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালতে মাহমুদুর রহমান আত্মসমর্পণ করেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত বছরের ৩ অক্টোবর আপিলের শর্তে তিনি জামিন পান। গত ১২ ডিসেম্বর সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন মাহমুদুর রহমান।