এগিয়ে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি। রাজধানীর সন্নিকটে টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের তীরে ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার শুরু হবে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন। সারা মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় মহাসম্মেলনের ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বের আয়োজন করবে তাবলিগ জামাত শুরায়ি নেজাম। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে ৭-৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন করার কথা রয়েছে সাদ অনুসারীদের। তবে ইজতেমা মাঠে হামলা ও হত্যার অভিযোগে মামলাসহ নানা জটিলতায় সাদপন্থিরা বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে আছেন। এদিকে বিশ্ব ইজতেমার সব প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এ উপলক্ষে পুরো ময়দানে তাবলিগ জামাতের অনুসারী, সদস্য, মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মুসল্লিরা প্রতিদিন দলে দলে দূর থেকে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। তারা মাটি কাটা, খুঁটি গাঁথা, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, বাঁশ ও সুবিশাল চটের শামিয়ানা তৈরির যাবতীয় কাজ করছেন। তুরাগ নদের তীরবর্তী ১৬০ একর জমি বিস্তৃত ইজতেমা ময়দান প্রস্তুতের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের জন্য উত্তর পশ্চিমে তৈরি হয়েছে বয়ান মঞ্চ। বয়ান মঞ্চের পশ্চিম পাশে বিদেশি মেহমানদের থাকার ব্যবস্থা। মুসল্লিদের পারাপারে তুরাগ নদের ওপর সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে ভাসমান ব্রিজ। এ বিষয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, দ্রুত এগিয়ে চলছে বিশ্ব ইজতেমার সব প্রস্তুতি। এবার দেরিতে হলেও মাঠ প্রস্তুতির কাজ যথা সময়েই সম্পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বের আয়োজকরা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ করছেন।
ইজতেমা সামনে রেখে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, নির্ধারিত সময়েই এবারের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। আগত মুসল্লিদের সেবায় ওয়াচ টাওয়ার, সিটি টিভি স্থাপন, প্যান্ডেল, বর্জ্য অপসারণ, মশক নিধন, পানি, বিদ্যুৎসহ যাবতীয় কাজ এগিয়ে চলছে। ময়দানের আশপাশ এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তাসহ ইজতেমা নির্বিঘ্নে করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।