রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) যাত্রা হলো বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এক্সপো-ভিলেজ ‘আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ’। সুবিশাল এই ভিলেজের একটি অংশ এই ‘এক্সপো টেন্ট’ যার আয়তন ১ লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ বহুমুখী ভেন্যুটিতে একই ছাদের নিচে মেলা, প্রদর্শনী, সমাবর্তন, সেমিনার, এজিএম, করপোরেট রিট্রিট, কনসার্ট, বিয়ে, বাইক, কার-শোসহ যে কোনো ধরনের ছোট থেকে বড় করপোরেট, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান স্বাচ্ছন্দ্যে করা যাবে। একই ছাদের নিচে এত বড় জনসমাগমস্থল বাংলাদেশে আর নেই, যেখানে ১০ হাজার জনেরও বেশি লোক একসঙ্গে সমাগম করা সম্ভব।
আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার এম এম জসীম উদ্দীন, আইসিসিবির হেড অব অ্যাকাউন্টস, ফাইন্যান্স ও অপারেশন্স এস এম মনিরুল ইসলাম পলাশ, সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ (এইচবিআরসি) এর নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবু সাদেক এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান এএসকে ট্রেড শো অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া।
প্রথম প্রদর্শনী হিসেবে আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বিল্ডিং ও কনস্ট্রাকশন, কাঠ ও কাঠের কাজ এবং বৈদ্যুতিক পণ্যের তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং ফিউচারেক্স ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড ইভেন্টস প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীটিতে দেশ-বিদেশের প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে হাজারেরও বেশি পণ্য প্রদর্শন করছেন। সেফওয়ে গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এবারের আসর, অষ্টম আন্তর্জাতিক বিল্ডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি ট্রেড শো বাংলাদেশ ‘বিল্ডকন এক্সপো ২০২৫’, ‘বাংলাদেশ উড এক্সপো ২০২৫’ এবং তৃতীয় আন্তর্জাতিক ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড শো ‘বাংলাদেশ এল্পপ্রোটেক এক্সপো ২০২৫’- তিনটি পৃথক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই এক্সপো ভিলেজের সঙ্গে রয়েছে সহস্রাধিক গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এক্সপো ভিলেজে একযোগে চারটি ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে চারটি সুবিশাল কম্পার্টমেন্ট। সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এই এক্সপো ভিলেজটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানে আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার এম এম জসীম উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম শেড হলো এই আইসিসিবি এক্সপো ভিলেজ বাংলাদেশ। এই শেডে এ ধরনের মেলা থেকে শুরু করে যত ধরনের জনসমাগম আছে সব এখানে করা সম্ভব। ১২ হাজারের বেশি মানুষ এখানে বসে বিভিন্ন কনসার্ট, সেমিনার সিম্পোজিয়াম, কনভোকেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলা এখানে হতে পারে।
সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ (এইচবিআরসি) এর নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবু সাদেক বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রদর্শনীগুলো গবেষণার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের পণ্যের সঙ্গে নিজেদের পণ্য তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তিন দিনব্যাপী বিল্ডিং ও কনস্ট্রাকশন, কাঠ ও কাঠের কাজ এবং বৈদ্যুতিক পণ্যের তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। প্রদর্শনীতে নির্মাণ অবকাঠামো, কাঠ ও আসবাবপত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল যেমন- আর্কিটেকচারাল ও বিল্ডিং হার্ডওয়্যার, অটো ক্লেভ, অ্যাব্রেসিভ টুলস, ফ্ল্যাপ ডিস্ক, এফআরপি ম্যানহোল কভার ইত্যাদিসহ বৈদ্যুতিক নানা যন্ত্রপাতি যেমন- ফাইবার লেজার মার্কিং ও কাটিং মেশিন, সিএনসি রাউটার, এমব্রয়ডারি মেশিনসহ সর্বাধুনিক উদ্ভাবনগুলো তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল ও সুবিধাদিও বর্ণনা করা হয়।