দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা আদায়ে বারবার সরকারকে তাগাদা দিচ্ছে। গত ছয় মাসে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সরকারের কাছে পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এই পাওনা দ্রুত আদায় করা না গেলে আসছে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে না এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হবে দেশবাসীকে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসর অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসানাত এবং সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইমরান করিম। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিপ্পা নেতারা বলেন, করোনার সময় থেকে আমাদের পেমেন্ট দিতে সরকার দেরি করা শুরু করে। আমরা বেশ কয়েকবার পাওনা আদায়ে সরকারের সঙ্গে বসেছি। কিন্তু যখনই আমরা বসি তখনই আমাদের জানানো হয় যে, টাকা সরকারের হাতে আসা মাত্রই পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সরকারের কাছে ছয় মাসের পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এখন পাওনা আদায় না হলে দেড় মাস পর থেকে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা আছে। বিশেষ করে আসছে মার্চ-এপ্রিল মাসে সেচ মৌসুম ও রমজানসহ গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। আর বকেয়া না পেলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এলসি খুলতে পারবে না। তারা জ্বালানি আমদানিও করতে পারবে না। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে। এর সে সময় দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সংকট দেখা দিতে পারে। বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসানাত আরও বলেন, আমরা এ খাতে এরই মধ্যে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পাওনা ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন ৫ থেকে ৬ মাস দেরি হচ্ছে। বকেয়া দিতে দেরি হওয়ায় ডলারের দাম বৃদ্ধিসহ অন্য কারণে আমাদের ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এ কারণে পিডিবি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। আর বকেয়া দিতে দেরি হওয়ায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সক্ষমতার কম বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্রয় চুক্তির ট্যারিফ (বিদ্যুতের দাম) পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে।
এ বিষয়ে বিপ্পা নেতারা সাংবাদিকদের জানান, যদি সরকার মনে করে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেশি দাম রাখছে তাহলে তারা সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে সবাইকে একদে মাপা ঠিক হবে না। এটি আমাদের জন্য সম্মানজনকও নয়।