জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জের আবেদন খারিজ করে আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এখতিয়ার চ্যালেঞ্জের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে শুনানির সুযোগ নেই এবং এটি সাংবিধানিক আদালতের বিষয় উল্লেখ করে আবেদনটি খারিজ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া অব্যাহতি চেয়ে জিয়াউল আহসানের করা আবেদনকে (প্রি-ম্যাচিউর) অপরিপক্ব বলে ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দেন। ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার আছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক অব্যাহতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী ও আইনজীবী নাজনীন নাহার। নাজনীন নাহার জিয়াউল আহসানের বোন এবং তার আইনজীবীও। অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
আদেশের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে জারি করা অধ্যাদেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার জন্য আইনটি করা হয়েছে কিন্তু জুলাই-আগস্ট মাসে কোনো যুদ্ধ হয়নি এবং যেহেতু বর্তমানে কোনো সংসদ নেই সুতরাং আইনের এ সংশোধনীটি বৈধ নয়। সেই সঙ্গে তাদের দাবি ছিল, ২০২৪ সালে করা সংশোধনীতে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এক ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেওয়া যৌক্তিক নয়।’ তিনি বলেন, কোনো আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে হলে সাংবিধানিক আদালতে যেতে হবে, সেটা করা হয়নি। সেই সঙ্গে এখতিয়ার নেই দাবি করে একই আদালতে তারা খালাসের আবেদন করেছেন। তাজুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে থাকবে তার কোনো মৌলিক অধিকার থাকবে না এবং তার বিচারের জন্য করা কোনো আইন যদি সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণও হয় সেটা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। সাংবিধানিকভাবে এক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া আছে। পরে আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অপরাধী ছিলেন, তাদের বিচার করতে এ ট্রাইব্যুনাল হয়েছে। এটাই ছিল এ আইনের মূল ভিত্তি। মূল স্পিরিটই ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে এবং এ কারণেই এ আইন হয়েছিল, এ ট্রাইব্যুনাল হয়েছিল।
নাজনীন নাহার বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে ছিল রাজনৈতিক বিরোধ। যার বিচার করতে দেশে যে আইনি ব্যবস্থা আছে এবং যে আদালত আছে, সেখানে এর ব্যবস্থা আছে। যদি উনারা মনে করেন, ট্রাইব্যুনাল করবেন, অবশ্যই নতুন করে করতে পারেন। কিন্তু এ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল শুধু ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য।’