শীতের সকালে তিস্তা নদীর চর যেন এক অপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে ওঠে। ঝাঁকে ঝাঁকে উড়তে থাকা অতিথি পাখির সুর যেন পরিবেশকে নতুন জীবন দেয়, আর সেই সুরে মুগ্ধ হয়ে নদীর পারে ভিড় জমাচ্ছে পাখিপ্রেমী দর্শনার্থী। হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এসব পাখির বিচরণ তিস্তার বালুময় চর সাজিয়ে তোলে অনন্য সৌন্দর্যে, যেখানে পাখির ওড়াউড়ি ও ছোটাছুটিতে মুগ্ধ হয় প্রতিটি চোখ। অতিথি পাখির আগমন তিস্তার চরের পরিবেশে অন্যরকম জাঁকজমক সৃষ্টি করেছে, আর সে দৃশ্য উপভোগ করতে নদীপারে একত্র হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, যাদের জন্য এ সময়টা প্রকৃতির এক অনবদ্য উপহার। অতিথি পাখিতে মুগ্ধ যেন দর্শনার্থী। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতিথি পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে তিস্তা নদীর উভয় পার। এবারও পাখি আসছে। এবারে বেশ কিছু নতুন পাখি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে নানা প্রজাতির দুর্লভ হাঁস, ছোট কান প্যাঁচা, লম্বা পা তিসাবাজ, জিরিয়া, টিটি, মনকান্ড, চখাচখিসহ ৫০ থেকে ৫৫ প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে তিস্তায়। তবে অচেনা পাখির ভিড়ে এবার তিস্তায় দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির পাখি পাতি মার্গেঞ্জারের। এ পাখি দেখতে অনেকটা রাজহাঁসের মতো। ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা কমলা রঙের। ডানা ধূসর এবং সাদার মিশ্রণ।
আলোকচিত্রী রনজিত দাস বলেন, ‘শীতকাল এলেই তিস্তা নদীতে যাই দুর্লভ পাখি দেখতে এবং ছবি তুলতে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারে তিস্তায় গত বছরের চেয়ে বেশি পাখির আগমন ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে উড়ে আসা এ অতিথি পাখিদের জন্য আমাদের নদীমাতৃক দেশের সৌন্দর্য বাড়ে। তবে ধীরে ধীরে পাখির বাসযোগ্য স্থানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, যার কারণে দেশে আসা অতিথি পাখিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এখন।’ লালমনিরহাটের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাহাবুবুল হক বলেন, ‘প্রতি বছর শীত এলেই রঙবেরঙের নাম না জানা অনেক রকম পাখিতে ভরে যায় আমাদের জলাশয়, হাওর, বিল ও পুকুর। আদর করে আমরা সেগুলোকে অতিথি পাখি বলি। ঝড়বৃষ্টি, তুষারপাতসহ প্রকৃতির প্রতিকূলতা থেকে বাঁচতে তারা পাড়ি জমায় আমাদের দেশে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি পাখি আসে বাংলাদেশে। তিস্তার চরের অতিথি পাখি দেখতে শত শত দর্শনার্থী প্রতিদিন নদীপারে আসছেন। পাখি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।’