বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলামের (৪২) সন্ধান মেলেনি সাত মাসেও। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ জুন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর ছেলে সোহান কবির (১৭) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন। তাদের তদন্তে খুব তাড়াতাড়ি ঘটনাটি জানা যাবে। এ ঘটনায় মহিদুলকে ফোনকল করে ডেকে নিয়ে যাওয়া অন্য ব্যবসায়ী আবদুস সবুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়। গত ৫ আগস্টের পরে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী আবদুস সবুরও জামিনে মুক্ত হন। এমতাবস্থায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিখোঁজ মহিদুলের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১১ জুন রাতে ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম একটি ফোনকল পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কুতুবপুর তালতলা গ্রামের মৃত মোনছের প্রামাণিকের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী মহিদুলকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে গত ১৯ জানুয়ারি কুতুবপুর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। গত ২১ জুন নিখোঁজ ব্যবসায়ীর ছেলে সোহান কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সোহান জানান, আমার বাবার নিখোঁজের ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কীভাবে জেলহাজত থেকে ছাড়া পেল তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তার সামান্য উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। সাত মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও আমরা তার কোনো খোঁজখবর পাচ্ছি না। কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, ব্যবসায়ী মহিদুল নিখোঁজের ঘটনায় আমাদের পুরো গ্রামবাসী মর্মাহত এবং আতঙ্কিত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক সিআইডি (বগুড়া) সোহেল রানা বলেন, মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, আলামত সংগ্রহ এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তকাজ চলমান রয়েছে।