হিজড়া জনগোষ্ঠীদের ভোটার হতে সমাজসেবা বা জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুরু হওয়া বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচিতে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংস্থাটির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী ইতোমধ্যে নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার বাংলাদেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া লিঙ্গ’ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বীকৃতি প্রদানের প্রেক্ষাপটে হিজড়ারা নতুনভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তবে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তাদের শনাক্তকরণের জন্য সমাজসেবা অফিসের প্রত্যয়ন অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নের ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে হবে। এ বিষয়ে যথাযথ দৃষ্টি রাখতে হবে, তারা যেন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় হিজড়াদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃত দেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তার ধারবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা আইনে পরিবর্তন এনে হিজড়াদের স্বীকৃতি দেয়।
২০১৯ সালে সে অনুযায়ী ভোটার হওয়ার পর সংশোধন করে নারী ও পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে তাদের নারী বা পুরুষ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে হতো। তবে এর পরও হিজড়া শনাক্তকরণে সিভিল সার্জনের প্রত্যয়ন লাগত। সেখানে তারা অনেক হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ আনলে সমাজসেবা বা স্থানীয় প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করে ইসি। বর্তমান ভোটার তালিকায় ১ হাজারের মতো হিজড়া রয়েছেন।
গতকাল হালনাগাদ শুরু হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ছবি তুলে নিবন্ধন সম্পন্ন করার কাজ। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।