কালের সাক্ষী হয়ে প্রায় ২০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের কালীমন্দিরের পাশে তমাল গাছ। এটি ঘিরে প্রচলিত রয়েছে রহস্য ও নানা ঘটনার স্মৃতি। এত প্রাচীন বৃক্ষ তবু বার্ধক্যের কোনো ছাপ নেই গায়ে। আজও তমাল বৃক্ষটি তরতাজা- চিরসবুজ আভায় সুশোভিত। সে কারণেই ওই এলাকার বয়োবৃদ্ধদের কাছে বৃক্ষটি নিয়ে শোনা যায় নানা কাহিনি। এ গাছটিকে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিয়মিত পুজো দেন। সরেজমিন সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামে দেখা গেল, দক্ষিণপাড়া কালীমন্দিরের ঠিক সামনেই দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে আছে তমাল গাছ। গাছের শাখাভর্তি সবুজ পাতায়। পাতা লম্বা-যা দেখতে অনেকটা পানপাতার মতো। ডালে ডালে গোলাকার গাবের মতো ছোট ছোট ফল। তমালের ডালে পাখি ও প্রজাপতির ওড়াউড়ি। পাতার ফাঁক গলে চলছে রোদের নাচানাচি। বাতাসে দোল খাচ্ছে তমালের ডাল। গাছটির ছায়া খুব ঠান্ডা। তীর্থযাত্রীরা এ তমালের ছায়ায় বসেন। মন্দিরের সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে তমাল গাছটি। এ সময় কথা হয় মন্দিরের সেবায়েত শিখা রানী বালার (৭০) সঙ্গে। তিনি জানান, এটি কমপক্ষে চার পুরুষ আগের গাছ। তাঁর বাবার নাম হরিপদ বিশ্বাস ও ঠাকুর দাদার নাম হিমচরণ বিশ্বাস এবং ঠাকুর দাদার বাবার নাম দুখচাঁদ বিশ্বাস। তাঁদের পূর্বপুরুষদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুখচাঁদ বিশ্বাসেরও পূর্বপুরুষদের আমলে এ তমাল গাছটি অলৌকিকভাবে এখানে জন্ম নেয়। সেই হিসাবে তমাল গাছটির বয়স ২০০ বছরের কম হবে না। তিনি আরও জানান, তমাল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূজনীয়। পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে তাঁরা এটি অক্ষত রেখেছেন। তবে বিষাক্ত মনে করে এর ফল ও পাতার সংস্পর্শে মানুষ আসতে চায় না। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তাঁর মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জায়গা তমাল গাছসহ মন্দিরের নামে তিনি দান করেছেন। তিনি নিয়মিতই মন্দিরের পূজা অর্চনা ও সেবা করেন।’ এ গ্রামের রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস (৭৩) বলেন, ‘আমার সত্তরোর্ধ্ব বয়স হয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকে গাছটি এভাবেই দেখছি। এমনকি আমার বাবা-কাকারাও গাছটি এভাবে দেখেছেন বলে তাঁদের মুখ থেকে শুনেছি। তাঁরা নেই। কিন্তু গাছের নিচে তাদের বসে বিশ্রাম নেওয়ার গল্প শুনেছি। অন্য এলাকার পথচারীদের অনেকেই এ দুর্লভ গাছটিকে চেনে না। তবে এ তমাল গাছের কারণে দেশ-বিদেশ থেকে এখানে লোকজন আসে। এটি আমাদের গর্ব।’ বর্তমান প্রজন্ম অনুপ কুমার বালা (৪৫) বলেন, ‘হিন্দুধর্মীয় সংস্কৃতিতে, পদাবলিতে তমাল-কদম্বের কথা আছে। তমালের সঙ্গে রাধা-কৃষ্ণের ভাব-ভক্তি আছে। অনেক শক্ত গাছ এটি। পুরনো এ গাছটিকে পবিত্র গাছ মনে করে কখনো বা কোনো সময় ভুলেও এর একটি ডালও কাটা হয় না। অনেক ছড়ানো-ছিটানো ডালপালা বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক ঝড় বাতাস মোকাবিলা করলেও গাছটি মরেনি।’ স্থানীয় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম আহসান হাবীব বলেন, ‘তমাল বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে তমাল গাছ সংরক্ষিত উদ্ভিদ। তমালের ফল বিষাক্ত। তমাল মাঝারি আকৃতির গাছ। এটি খুব ধীরে ধীরে বাড়ে। অনেক দিন লাগে বড় হতে। এটি ঘন কালো গাঁটযুক্ত কান্ড। এর কান্ড কখনো কখনো কণ্টকিত, আঁকাবাঁকা ও ছড়ানো শাখা-প্রশাখাগুলো ছত্রাকৃতির। এর ছায়া খুব শীতল। এরকম বয়স্ক তমাল গাছ সচরাচর দেখা যায় না।’
শিরোনাম
- টিকফার মাধ্যমে অবস্থান তুলে ধরে শুল্ক কমানোর আলোচনা করতে হবে
- সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরল গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শিশু মুসা
- ব্যাংককে খলিল-ডোভাল আলাপচারিতা
- গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার
- যৌথ অভিযানে এক সপ্তাহে ৩৪১ অপরাধী গ্রেফতার
- ভোলায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২৫
- বিগত দিনে মানুষ ভোট দিতে পারে নাই : ধর্ম উপদেষ্টা
- ১১ বছরেও মিলল না সন্ধান, এমএইচ৩৭০ নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই
- যশোরে বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালো বাবা-মেয়ে, আহত ৩
- ট্রাম্পের শুল্কারোপ: ১০০ বছরে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন
- গাজায় দেড় বছরে প্রায় ৪০ হাজার শিশু এতিম হয়েছে
- ব্যাংককে ড. ইউনূস-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক শুক্রবার
- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক ইস্যুর সমাধান করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা
- সাতক্ষীরায় প্লাবিত এলাকায় নৌবাহিনীর জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা
- শৈশবে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, নৃত্যগুরুর হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী
- রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের যুবক নিহত
- লিবিয়ার জিম্মি দশা থেকে দেশে ফিরলেন লোকমান
- সাতক্ষীরায় বাঁধ ভাঙনে দুর্যোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে নৌবাহিনী
- মার্কিন কূটনীতিকদের জন্য চীনাদের সঙ্গে প্রেমে নিষেধাজ্ঞা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
- মির্জাপুরে বাছুরসহ দুই গাভী চুরি
নড়াইলে রহস্যে ঘেরা তমাল গাছ
সাজ্জাদ হোসেন, নড়াইল
প্রিন্ট ভার্সন

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ খবর

ভারতকে রুখে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেল হামজারা, শীর্ষে মেসির আর্জেন্টিনা
১১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে পরোয়ানা: আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হাঙ্গেরির
১০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম