নড়াইল সদর উপজেলার হিজলডাঙ্গায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পাগল চাঁদ ঠাকুরের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধ্যাত্মিক সাধক চাঁদ ঠাকুর ওরফে ল্যাংটা পাগলের স্মরণে গতকাল অনুষ্ঠিত এ মেলায় দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা অংশ নেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের তাঁর ভক্তরা বিশ্বাস করেন, তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারলে সবার মনের ইচ্ছা পূরণ হবে। এজন্য পাগলের সমাধিতে চানাচুর আর বাতাশা ছুড়ে মেরে পাগলকে সন্তুষ্ট করতে ব্যস্ত থাকেন ভক্তকুল। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নড়াইল শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে মুলিয়া ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গার মেলায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। হিজলডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল মাঠের এই মেলায় হাজারো পসরা নিয়ে এসেছেন দূর-দূরান্তের লোকেরা। মেলায় দোকানিরা পসরা সাজিয়েছেন অলংকার আর পিতলের সব বাসনপত্রের। যার বেশির ভাগই সনাতন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, মেলায় হাতের তৈরি বাঁশ ও বেতের সামগ্রী ধামা, পইকে, কুলা, চালন সবই স্থান পেয়েছে। মাটির খেলনা থেকে শুরু করে লোহার তৈরি গৃহস্থালী সামগ্রীর সমাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। রয়েছে হিন্দু বিবাহিত নারীদের শাখা ও পলা। একই সঙ্গে মেলাজুড়ে ছিল পাঁপড়, বাদাম, গজাসহ বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। ছিল হরেক রকমের মিষ্টি খিলিপান। এভাবে হাজার হাজার মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ। গ্রাম্য মেলার সম্পূর্ণ রঙিন চেহারা ফুটে উঠেছে এখানে। মেলার আয়োজক মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘হিজলডাঙ্গায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক সাধক পাগল চাঁদ ঠাকুরের মেলায় আশপাশের জেলাগুলো থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা আসেন এখানে। ধর্মীয় সংগীত, পাগলের কাছে মানত এবং প্রসাদ গ্রহণ আর বিকিকিনি চলে রাতভর। হাজার হাজার লোকের সমাগমের এই মেলা উৎসবের অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।’