দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের নির্মাণাধীন কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবির লিখিত রেজুলেশন আসার আগ পর্যন্ত চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’এর কর্মসূচি বৃদ্ধি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ও ৭০% অস্থায়ী আবাসনের বিষয়ে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত না আসায় গতকাল তৃতীয় দিনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ শেষ হওয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে তিন দফা দাবির সর্বশেষ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্দোলনরত ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফেরদৌস শেখ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও অস্থায়ী আবাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত আসেনি। গত রবিবার থেকে আমাদের অনশন কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (গতকাল) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বৈঠকে বসেছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো উপাচার্য আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে কোনো প্রকার লিখিত ডকুমেন্টস হাতে পাইনি।
সিদ্ধান্তগুলো হলো : ১. আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করবেন বলে সম্মত হয়েছেন এবং কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন বলে জানিয়েছেন। ২. প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনের জন্য সেনাবাহিনীর একটি দল আগামী রবিবার দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী এ কেএম রাকিব বলেন, আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত রেজুলেশন আসার আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ থাকবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবা যেমন- রেজিস্ট্রার অফিস, মেডিকেল সেন্টার, ক্যান্টিন, ডিন ও বিভাগীয় অফিসগুলো শাটডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, শাটডাউন অবস্থায় ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার বিক্ষোভ, শোডাউন, স্লোগান-মিছিল, জ্বালাও-পোড়াও করা যাবে না। লিখিত রেজুলেশন শিক্ষার্থীদের দাবির অনুকূলে না এলে আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেব। এদিকে দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির মিটিং শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম তাঁর সভাকক্ষে আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সচিবালয়ে আজকে আমাদের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে। তারা (সেনাবাহিনী) কাজটি নিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। আগামী রবিবার সেনাবাহিনী দ্বিতীয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যাবে। তারা ভিজিট করে কোন কাজ কী পর্যায়ে আছে তা দেখে সবকিছু তত্ত্বাবধানে নেবে।
উপাচার্য আরও বলেন, এ কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে পুরান ঢাকার বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান হলের স্টিল বেইজড ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে সেনাবাহিনী মৌখিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে। এ সময় তিনি শাটডাউন তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীদের।
এর আগে (বুধবার) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সেই সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এদিন সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির মিটিংয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে তা জানার জন্য প্রশাসনিক ভবনের সামনেও অবস্থান নেয়। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বাংলা, ইতিহাস, ইসলামিক ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পদার্থবিজ্ঞান, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ইতিহাস, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রসায়ন, সিএসই, ফার্মেসি, গণিত, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, বাংলা ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘শাটডাউন’-এর সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। তারা এ সময় বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্প সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়া ও কী কী বিষয় বিবেচনা করা হবে এ বিষয়ে গতকাল একটি কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা)। আর সদস্যসচিব রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, ইউজিসি প্রতিনিধি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।