নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করবে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের চীন সফরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ অনেক বিষয়ে আলোচনা হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চীন সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন উপদেষ্টা নিজেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চীন সফরে আলাপ-আলোচনার মধ্যে প্রথমে ব্যবসায়িক বিষয়গুলো আসবে। চীন আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। চীনের সঙ্গে আমাদের প্রধানত আমদানির সম্পর্ক এবং এগুলো আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। কারণ আমাদের অনেক রপ্তানি সেই আমদানি পণ্যগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া আমাদের অনেক প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ আছে। বিনিয়োগ মূলত ঋণ আকারে। আমরা ঋণের শর্তাবলী নিয়ে কথা বলব। এর মধ্যে সুদহার কমানো বা ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো ইত্যাদি বিষয় থাকবে। উপদেষ্টা বলেন, এখনো চীন আমাদের অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু এলডিসি থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পরে এটা পরিবর্তন হতে পারে। তাই এটি আমাদের আলোচনার মাধ্যমে আগেই ঠিক করে নিতে হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে দুই দেশেই কিছু উৎসব আছে। সেগুলো নিয়েও আমরা কথাবার্তা বলব। তিনি বলেন, তিস্তা নদী নিয়ে কাজ করতে চীনের আগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হবে। দেশটির সঙ্গে ভৌগোলিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। মিয়ানমারের ওপর চীনের অনেক প্রভাব রয়েছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজ হবে না। এ বিষয়েও কথা হবে।
সফরসূচি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ২১ জানুয়ারি রাজধানী বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। তারপর সাংহাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে হবে। এর বাইরে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির (ইভি) কারখানা এবং ফ্রুটস প্রিজারভেশন-সংক্রান্ত দুটি শিল্পকারখানা আমাদের দেখানো হবে। তাদের নতুন এসব টেকনোলজি আমাদের দেশে কাজে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনে ঢাকায় এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না এ সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে হোঁচট খাবে না। সম্পর্ক একটা বহমান ধারা। এটাতে পারস্পরিক চাওয়া-পাওয়ার হিসেব সব সময় একটু-আধটু পরিবর্তন হয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের স্বার্থে তাদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করব। সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার বিষয়ে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সীমান্তে জিরো লাইন থেকে ১৫০ গজ দূরে যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, এটি আন্তর্জাতিক আইন। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।