পিলখানা হত্যাকান্ডের ঘটনায় জেলে বন্দি নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্যাতিত বিডিআর পরিবার ও বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগের রায় বহাল রেখে পুনরায় তদন্তের ঘটনার নিন্দাও জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দুটি সুশৃঙ্খল বাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য পিলখানা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে খুনি হাসিনার অবৈধ ক্ষমতাকে সুসংহত করার উদ্দেশ্য ছিল দেশি-বিদেশি চক্রান্তের নীলনকশার সফল বাস্তবায়ন। কিন্তু খুনি হাসিনা এ হত্যাকান্ডকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বিডিআর বিদ্রোহ বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার উদ্দেশে তদন্তের নামে তদন্ত হেফাজতে ৪৭ জন নিরীহ বিডিআর জওয়ানকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যেসব বিডিআর জওয়ান প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিল তাদেরই তদন্তের নামে মেরে ফেলা হয় এবং এই খুনি হাসিনার হাত থেকে পিলখানার পেশ ইমামও রক্ষা পাননি। তারা বলেন, খুনি হাসিনার পদলেহনকারী তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ অত্যন্ত চতুরতা সঙ্গে সত্য প্রকাশ করে দিতে পারে এবং মিথ্যা সাক্ষী দিতে না চাওয়া ৮৫০ জওয়ানকে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে জেলে পাঠিয়েছে। এ প্রহসনমূলক বিচারের দ্বিতীয় পর্ব মানে বিচার-পর্ব অভিনীত হয় পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল, দায়রা জজ মোহাম্মদ জহুরুল হক ও দায়রা জজ আখতারুজ্জামানের মাধ্যমে। এ প্রহসনমূলক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ১৫২ জন নিরীহ বিডিআর জওয়ানকে ফাঁসি এবং ১৮২ জনকে যাবজ্জীবন ও প্রায় ৩০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। অথচ একটি সাজার পেছনেও সরকার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার যৌক্তিকভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
এ সময় তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আলোকচিত্রী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম, বিডিআর পরিবারের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।