পশ্চিমাঞ্চলে পুরো রেলপথের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার। এক বছরে এই রেলপথের ৩৫৭ স্থানে ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রেললাইন ভাঙার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। হিলি সেকশনে সবচেয়ে বেশি ১২১ স্থানে ভেঙেছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথের বয়স হয়েছে, ক্ষমতা কমেছে। প্রচণ্ড শীত, গ্রীষ্মের দাবদাহের কারণে ভাঙছে লাইন। ভাঙার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে নতুন রেললাইন স্থাপনে দুটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পুরো ১ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার পথ দুই সেকশনে ভাগ করা হয়েছে। রাজশাহী-জয়দেবপুর সেকশন প্রকৌশল বিভাগ-২ এর আওতায় আছে। এই সেকশনে ৩১৮ স্থানে ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে হিলি সেকশনে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বেশি ভেঙেছে। খুলনা-রাজবাড়ী মিলে প্রকৌশল বিভাগ-১ এর আওতায় আছে। এই সেকশনে ৪০ স্থানে রেললাইন ভেঙেছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে ১২টি মোবারকগঞ্জ সেকশনে। এই সেকশনে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে। প্রকৌশল বিভাগ-২ এর আওতায় পড়ে ৯টি সেকশন। এই সেকশনে ৩১৮ স্থানে রেললাইন ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে- জয়দেবপুরে ১৭, সিরাজগঞ্জ বাজার সেকশনে ৫৯, ঈশ্বরদী ৩৯, সান্তাহার ১৮, হিলি ১২১, পার্বতীপুর ১৮, সৈয়দপুর ২০। রাজশাহী সেকশনে ২৬ স্থানে ভেঙেছে। মাসের চিত্রে জানুয়ারিতে ৪৩টি স্থানে ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ৩৬, মার্চে ৩৩, এপ্রিলে ১৯, মে মাসে ১৭, জুনে ২০, জুলাইয়ে ১১, আগস্টে ১৪, সেপ্টেম্বরে ২৯, অক্টোবরে ২১, নভেম্বরে ২৮ ও ডিসেম্বরে ৪৭ স্থানে রেললাইন ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। প্রকৌশল বিভাগ-১-এর আওতায় পড়ে আটটি সেকশন। এসব সেকশনে ৪০ স্থানে ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে খুলনায় ৫, যশোরে ৯, মোবারকগঞ্জে ১২, চুয়াডাঙ্গায় ৭, ভেড়ামারায় ৪ এবং কুষ্টিয়া সেকশনে ৩ স্থানে রেললাইন ভেঙেছে। মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে আট স্থানে ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে ৮, মার্চে ৪, মে মাসে ২, জুনে ৩, জুলাইয়ে ৩, আগস্টে ১, সেপ্টেম্বরে ৪, অক্টোবরে ৩, নভেম্বরে ২ এবং ডিসেম্বরে দুই স্থানে রেললাইন ভেঙেছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম বলেন, কোনো জায়গায় ভেঙে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করা হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সাধারণত জয়েন্টে ভাঙে। আবার স্লিপারের কারণে কিছু ভাঙে।