টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় দেড় শ বছরের ঐতিহ্যবাহী মহেড়ার রাজবাড়ি এখন দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত। রাজবাড়িটিতে পূর্ণাঙ্গ মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলায় এর সৌন্দর্যও বহুগুণ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন মহেড়ার জমিদারবাড়ি (রাজবাড়ির) দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ দেখতে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ মাইল পূর্ব-দক্ষিণ দিকে এবং মির্জাপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে প্রায় আট একর জায়গার ওপর এই মহেড়া জমিদারবাড়ি বিস্তৃত। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে উত্তরে ও মির্জাপুর সদর থেকে মহেড়া গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
মহেড়া জমিদার বাড়ির প্রবেশপথের সম্মুখে রয়েছে সুবিশাল এক দিঘি যার নাম ‘বিশাখা সাগর’। দিঘির দক্ষিণ পাশেই রয়েছে বিশাল আম্রকানন ও প্রধান তিনটি ভবনের পাশাপাশি অবস্থিত নায়েবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর। এ ছাড়াও আছে কারুকার্যখচিত দুটি সুরম্য প্রবেশদ্বার, শোভাবর্ধনের জন্য দেশি-বিদেশি বাহারি রঙের আরও নানান জাতের ফুলের গাছ। মূল আকর্ষণ চৌধুরী লজ, মহারাজা লজ, আনন্দ লজ ও কালীচরণ লজ। চুনাপাথর, সুরকি আর ইটের সমন্বয়ে নির্মিত এ ভবনগুলো যে কারও নজর কাড়ে। বিগত বছরগুলোয় এ জমিদারবাড়ি দেশের অন্যতম সেরা প্রাচীন দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। যার মধ্যে ভবনগুলোর রং পরিবর্তন করে নতুন রূপ দেওয়া, মিনিপার্ক ও চিড়িয়াখানা স্থাপন, পিকনিক স্পট হিসেবে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থাসহ সিনেমার শুটিং স্পট হিসেবেও এটি বিবেচিত হয়। জমিদারবাড়ির আনন্দ লজ ভবনটির ভিতরে শোভা পাচ্ছে ব্রিটিশ-ভারতের পুলিশ বাহিনীর সদস্যের ট্র্যাচু, মিউজিয়াম, জমিদারদের ব্যবহৃত পানদানি কৌটা, সিঁদুর কৌটা, ঘটিবাটি, একনলা-দোনলা বন্দুকসহ বিভিন্ন ব্যবহৃত সরঞ্জাম।
মহেড়া জমিদারবাড়িটি দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এখানকার স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্য সত্যিই নজর কেড়ে নেয়। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। মহেড়ার রাজবাড়ি দেখতে প্রবেশমূল্য কমানোর দাবি করেছেন দর্শনার্থীরা। এ ব্যাপারে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ডার মোহাম্মদ আসফাকুল আলম বলেন, মহেড়ার রাজবাড়ি এখন বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার। এখানে পুরনো স্থাপনাগুলো সরকারি নির্দেশনা ও সহযোগিতায় নানা সাজে সজ্জিত করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের দেখানোর নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।