২০ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদে যুক্ত যোগ্য ভোটারদের আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে ভোটার তালিকা আইন ও বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেখেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আইন বিশ্লেষণ করছেন।
এ ছাড়া বর্তমানে ১৭ বছর বয়সিদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এজন্য এ আইনের পাশাপাশি সংবিধানেও সংশোধন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬ নং আইন) এর ধারা ১১ এর উপ-ধারা (১) ছিল ‘কম্পিউটার ডাটাবেজ সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা, প্রতি বৎসর ২ জানুয়ারি হইতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিম্নরূপে হালনাগাদ হইবে, যথা :- (ক) পূর্বের বৎসরের ২ জানুয়ারি হইতে যিনি ১৮ বৎসর বয়স পূর্ণ হইবার কারণে ভোটার হইবার যোগ্য হইয়াছেন অথবা যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ধারা ১০ এর অধীন তালিকাভুক্ত হন নাই, তাহাকে ভোটার তালিকাভুক্ত করা’। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি এ আইনের সংশেধান করা হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, ‘২ জানুয়ারি হইতে ৩১ জানুয়ারি’ সংখ্যা ও শব্দগুলির পরিবর্তে ‘২ জানুয়ারি হইতে ২ মার্চ’ সংখ্যাও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আইন অনুযায়ী গত ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। দাবি আপত্তি শেষে আগামী ২ মার্চ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে নতুন ভোটার সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন যে উদ্যোগ নিয়েছে তাদের হালনাগাদের খসড়া প্রকাশ হবে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি। আর চূড়ান্ত হবে ২ মার্চ। এ ক্ষেত্রে যাদের বয়স আগামী বছরের ২ জানুয়ারির আগেই ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদেরও ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন হলে যোগ্য নতুন ভোটাররা ভোটাধিকার বঞ্চিত হতে পারেন। এ বিষয় নতুন নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গত ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদের খসড়া প্রকাশের সময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেছি- যদি দেখি ভোটের (সংসদ নির্বাচন) আগে উল্লেখযোগ্য ভোটার বয়োপ্রাপ্ত হয়ে গেছেন, তাহলে প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স জারি করে তাদের ভোটার তালিকায় সন্নিবেশ করা যায় কি না তা যাচাই করে দেখব।
১৭ বছর বয়সিদের ভোটার : নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ব্যক্তিগত একটি মত দিয়েছেন। আমরা শুনেছি সেটা। এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। যদি এটা নিয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মতৈক্য হয় এবং এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়, সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আসে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
আইন পর্যালোচনায় আজ বৈঠকে বসছে ইসি : আওয়ামী লীগের আমলে করা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) কার্যক্রম সরকারের অধীনে ছেড়ে দেওয়ার আইন পর্যালোচনায় ‘কমিশন বৈঠক’ ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। গত বৃহস্পতিবার ইসির সংস্থাপন শাখার উপসচিব মো. শাহ আলম এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছেন। আদেশে বৈঠকে অন্য আরও দুটি আলোচ্য বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত ‘বিশেষ তথ্য ফরম (ফরম-২ এর অতিরিক্ত তথ্য)’ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা। আরেকটি হলো- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনবল কাঠামো ও সরঞ্জামাদি হালনাগাদকরণ সম্পর্কে আলোচনা। ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, এনআইডি কার্যক্রম ইসির কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করতে বিগত আওয়ামী সরকার ২০২৩ সালে একটি আইন করে। ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০২৩’ শীর্ষক ওই আইনে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যক্রম সুরক্ষা সেবা বিভাগে না নেওয়া পর্যন্ত ইসির অধীনেই পরিচালনার কথা বলা হয়।
সে মোতাবেক এখনো এনআইডি ইসির অধীনেই আছে।
দীর্ঘদিন থেকেই সুশীল সমাজ এবং দেশের সাধারণ মানুষ এ কার্যক্রমটি ইসির অধীনে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বলছেন, ২০২৩ সালের নতুন আইনটি বাতিল করা উচিত। অন্যথায় ওই আইন সংশোধন করে সুরক্ষা সেবা বিভাগের পরিবর্তে এনআইডি সেবা ইসির অধীনে রাখার বিষয়টি যোগ করা উচিত। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৪ নভেম্বর ইসিতে যোগদানের পর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের এটি দ্বিতীয় বৈঠক। বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নতুন ইসি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আগেই পর্যালোচনা করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবারের বৈঠকটিও ডাকা হয়েছে।