যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ দাঁড়িয়েছে। দাবানলের সময় বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখের বেশি বাসিন্দা। এ অবস্থায় পরিত্যক্ত বাড়িগুলোয় লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ লুটের অভিযোগে ২১ জনকে আটকও করেছে। কিছু এলাকায় কারফিউ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
ধ্বংসযজ্ঞের ভিতর মৃতদের সম্পর্কে স্থানীয় সময় ৯ জানুয়ারি রাতে কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানান, ‘মৃতদের শনাক্তকরণে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। কারণ, দাবানল পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে মেডিকেল পরীক্ষক বিভাগ যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না।’ এদিকে দাবানলের আগুন লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভেলটুরা কাউন্টির সীমান্তবর্তী কেনেথ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আগুন প্রায় ১ হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে সহায়তায় কয়েক শ কারাবন্দিকে নামানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (সিডিসিআর) জানিয়েছে, তীব্র বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য ৭৮৩ জন কারাবন্দিকে নামানো হয়েছে। তারা ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগের (ক্যাল ফায়ার) প্রায় ২ হাজার দমকলকর্মীর সঙ্গে আগুন নেভাতে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের সব স্কুল শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে আজও (১১ জানুয়ারি) স্কুল বন্ধ থাকবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে বলে জানিয়েছেন এলাকার তত্ত্বাবধায়ক আলবার্টো এম কারভালহো।
বাতাসের মান পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফ রবার্ট লুনা বলেছেন, দাবানলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় পৌঁছানোটা নিরাপদ নয়। দাবানলের ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘...(মনে হচ্ছে) এ এলাকাগুলোয় একটি পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছে।’ দাবানল আরও বাড়বে কি না, সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে রবার্ট লুনা বলেন, তিনি প্রার্থনা করছেন, যাতে তেমনটা না হয়। খবরে বলা হয়, বিনোদনজগতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে শহরটি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে ছয়টি আলাদা দাবানল সৃষ্টি হয়ে। দেড় শ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে বয়ে চলা ঝড়ে হুহু করে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। দাবানলের সময় বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে ২ লাখের বেশি বাসিন্দা। এ অবস্থায় পরিত্যক্ত বাড়িগুলোয় লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ লুটের অভিযোগে ২১ জনকে আটক করেছে। খবরে বলা হয়েছে, তীব্র বাতাসে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন রেড ফ্ল্যাগ সতর্কতা জারি করেছে। গ্যাসলাইনের সংস্পর্শে এসে আগুন যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেজন্য বিভিন্ন এলাকায় সড়কপথ ধ্বংস করা হচ্ছে। গত দুই দিনে বাতাসের গতি বাড়তে থাকায় দাবানল দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে গেছে। প্যালিসেইডস ও ইটনে দাবানলে প্রায় ৩১ হাজার একর এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। জেনিফার অ্যানিস্টন, ব্র্যাডলি কুপার, টম হ্যাঙ্কস, বেন অ্যাফ্লেক, মাইকেল কিটন, প্যারিস হিলটন, অ্যাডাম স্যান্ডলারসহ অনেক হলিউড তারকা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। আগুন লাগার কারণ : ২০ বছর বয়সি এক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘ফ্লেম-থ্রোয়ার’ অর্থাৎ জ্বলন্ত তরল বা গ্যাসীয় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে আগুনের সূত্রপাত করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল, এ আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। এলএপিডির টোপাঙ্গা ডিভিশনের শন ডিনস জানান, বৃহস্পতিবার উডল্যান্ড হিলসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছিলেন এক ব্যক্তি। স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই সন্দেহভাজনের পরিচয় জানায়নি পুলিশ। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, আনুমানিক ২০ বছর বয়সি ওই সন্দেহভাজনের কাছে একটি প্রোপেন ট্যাংক বা বড় হলুদ ট্যাংকের মতো ফ্লেম-থ্রোয়ার ছিল। তবে স্থানীয় ফায়ার চিফ জানান, ইচ্ছাকৃত আগুন লাগানো হয়েছে, এখনো এমন কোনো ‘নিশ্চিত প্রমাণ’ নেই।