চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গায়েব বিভিন্ন মামলার প্রায় ২ হাজার নথি কেজি ধরে বিক্রি হয়েছিল ভাঙারির দোকানে। আদালত চত্বর এলাকার এক চায়ের দোকানে এসব নথি চুরি করে বিক্রি করে। গতকাল ভোরে নগরীর পাথরঘাটা এলাকার একটি ভাঙারির দোকান থেকে ৯ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চায়ের দোকানদারকে গ্রেপ্তারের পরই এসব নথির সন্ধান মেলে। কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম বলেন, আদালত থেকে গায়েব হওয়া নথিগুলো উদ্ধারে আমরা কাজ করছিলাম। ওই নথিগুলো আদালত চত্বর এলাকায় চা বিক্রি করা রাসেল নামে একজন চুরি করেছিল। পরে ভাঙারির দোকানে কেজি দরে নথিগুলো বিক্রি করে দেয়। আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা তাকে আটক করি। এরপর তাকে নিয়ে ভাঙারির দোকানে গিয়ে নথিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করছি, এটি একটি নিছক চুরি, অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করত বলে মনে হচ্ছে না। গত ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম আদালতের হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার ১ হাজার ৯১১টি নথির খোঁজ না পাওয়ায় কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া।
জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। স্থানস্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।