চাহিদা ভালো থাকায় প্রতি বছর কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হয় কুয়াকাটায়। লক্ষণীয় হলো, কুয়াকাটায় এখনো সনাতন পদ্ধতিতে উৎপাদন হয় শুঁটকি। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয় বলে এর সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। শীত মৌসুমের প্রথম দিকে শুরু হয় সাগরপারের শুঁটকি পল্লীগুলোতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মহাযজ্ঞ। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে এ কাজে যুক্ত রয়েছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে উৎপাদিত শুঁটকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জান গেছে, সাগরপারের গঙ্গামতী, কাউয়ার চর, ধুলাসার, মহিপুরের নিজামপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শুঁটকির ব্যবসা। মৌসুমের শুরুতেই একেকটি স্পটে ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক উপায়ে শুকান সামুদ্রিক মাছ। কেউ মাছ আহরণ শেষে ধোয়ার কাজ করছেন। কেউ বড় মাছ কাটছেন। কেউ লবণ মিশিয়ে বাঁশের তৈরি মাচায় কিংবা বিভিন্ন স্থানে বিছিয়ে রাখছেন। কেউ বা আবার শুকানো মাছ প্যাকেট করছেন। শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, কুয়াকাটার আশপাশে গড়ে ওঠা শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ২৫ হাজার জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াকাটায় ছোটবড় শতাধিক দোকানে অন্তত ৫০ প্রজাতির সামুদ্রিক শুঁটকি মাছ বিক্রি হয়। তবে লইট্টা, ছোট চিংড়ির শুঁটকির রয়েছে বেশি চাহিদা। আরও আছে ছুড়ি, কাচকি, বৈরাগী, রুপচাঁদা, কোরাল, চ্যাপা, বাঁশপাতা, সুরমা, রামচ্যালা, চাপিলা, লাক্ষ্যা, টোনা, ফাইস্যা, চান্দা, পোয়া, বাইন, পাবদা, ভেটকি, ভোল, ইলিশসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি।
পর্যটক-দর্শনার্থীরাও প্রতিদিন কিনে নিচ্ছেন এখানকার শুঁটকি। প্রাকৃতিকভাবে শুকানোর ফলে আলাদা স্বাদ থাকায় ১২ মাসই এ শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরি করতে পারলে উৎপাদন আরও বাড়ত। এতে শ্রমিক এবং জেলেদেরও কষ্ট কমে যাবে, সবাই লাভবান হতো বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শুঁটকিপল্লীর ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া বলেন, শুঁটকিতে কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহৃত হয় না। প্রাকৃতিকভাবে রোদে শুকিয়ে পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে শুঁটকি করা হয়। দেশের বাইরেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘কুয়াকাটার শুঁটকির দেশব্যাপী সুনাম। উন্নতমানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।’