সাভারে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অ্যাম্বুলেন্সসহ চলন্ত দুই বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা একই পরিবারের চার ব্যক্তি আগুনে নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বাসের লকারে থাকা অর্ধ শতাধিক ছাগল আগুনে পুড়ে গেছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউন এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার ভাবন দত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন সিদ্দিকী, তার স্ত্রী মহসিনা আক্তার, ছেলে মোহাইমিন সিদ্দিকী ফুয়াদ ও শ্যালিকা সিমা আক্তার। এ ঘটনায় আহতরা হলেন গোলাম রাব্বানী, সবুজ, সাহের আলম, নুর ইসলাম, বাবুল হক, শাহিনুর, ও মোরশেদসহ অন্তত ৩০ জন। তাদের উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাভার ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইনচার্জ মেহেরুল বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউনের সামনে ঢাকামুখী লেনে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঝুমুর পরিহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে বাসটিতেও আগুন ধরে যায়।
একই সময় শ্যামলী পরিহনের আরও একটি বাস পেছন থেকে ঝুমুর পরিবহনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে সেই বাসেও অগ্নিকাে র ঘটনা ঘটে। এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর অ্যাম্বুলেন্সের চালকের পাশের আসন থেকে এক পুরুষের লাশ এবং অ্যাম্বুলেন্সের পেছন থেকে দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন, ঘটনাস্থল পরির্দশন করা হয়েছে, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই বাস ও ট্রাকচালককে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীন ছিল। তবে আরও কোনো কারণ আছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। বাস দুটি ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পালিয়েছে। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুড়ে যাওয়া দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।