বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, চালের মূল্যবৃদ্ধির সমস্যাটা সাময়িক ‘আমার হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই যে তাতে সুইচ দিলেই আগামীকাল বাজার ঠিক হয়ে যাবে।’ গতকাল ঢাকা সফররত তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাটের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা এমন মন্তব্য করেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের তথ্য-উপাত্ত বলছে চালের মজুতে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে যে ব্যত্যয়টা চালের বাজারে দেখছি, সেটাকে হ্যান্ডেল করার জন্য আমদানি আরও বেশি উদার করেছি। যদি কেউ অন্যায্যভাবে মজুত করে থাকেন তাহলে আমদানি শুরু হলে তাঁরা বাজারে চাল ছাড়তে বাধ্য হবেন। বাজারও তখন স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।’ এ সময়ে বাজার থেকে হাজার কোটি টাকা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং মানুষের কষ্ট হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সময়টা সাময়িক। আমার হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই যে তাতে সুইচ দিলেই আগামীকাল বাজার ঠিক হয়ে যাবে। চালের বাজার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুল্ক ৬৩ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক লাখ টন চাল সরাসরি আমদানি হচ্ছে। চাল আমদানি করা হচ্ছে মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ভারত থেকে। এখন আমনের ভরা মৌসুম চলছে। এপ্রিল নাগাদ বোরো ধান আসবে। আশা করা যায়, এর মধ্যেই বাজার ঠিক হয়ে যাবে।
নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দেন, তাহলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে।’
টিসিবির ৩৭ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বাতিল : তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে ৩৭ লাখ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড বাতিল করা হয়েছে। ১ কোটি বলা হলেও ৬৩ লাখ ফ্যামিলি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য দিচ্ছে টিসিবি। ১ কোটি কার্ডের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। একই পরিবারে একাধিক কার্ড ছিল। এনআইডি ব্যবহার করে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে এ কাজটা করা হয়েছিল। আমরা সেগুলো শনাক্ত করে বাতিল করেছি। এতে প্রকৃত গরিবরা এর উপকারভোগী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ১ কোটির মধ্যে যেখানে ৩৭ লাখ কার্ড নেই। এর মধ্যে প্রকৃতরা একজনও বাদ পড়েনি। যারা সঠিক প্রাপক, তাদের কাছেই পণ্য পাঠানো হচ্ছে। যারা বেঠিক ছিল, ডুপ্লিকেশন ছিল তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সংখ্যা একটিও বা কাউকে কমানো হয়নি বাদ দেওয়া হয়নি। এখানে আমরা আরও ৩৭ লাখ কার্ড বাড়াতে চাই। ক্রয় এবং বিপণনে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে যদি এটা ১ কোটি থেকেও বাড়ানো সম্ভব হয় আমরা সেটাও করব। তবে সবকিছুই করা হবে স্বচ্ছতার মাধ্যমে। যেন প্রকৃতপক্ষে যারা পাওয়ার যোগ্য তারাই ফ্যামিলি কার্ড পান। আমরা সেটাই নিশ্চিত করার কথা ভাবছি।