প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যসামগ্রীর দাপটেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কল্যাণপুর মৃৎশিল্প সমবায় সমিতির তৈরি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। তবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মূলধনের অভাবে চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করতে পারা যাচ্ছে না। রয়েছে পুঁজির সংকট। কল্যাণপুর গ্রামের ৪০ জন সদস্য মিলে গড়ে তুলেছেন সমিতি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৫০-৬০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক পণ্য উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটি আর পানি দিয়ে কাদা তৈরি আর কেউ থালা, বাটি ও গ্লাস তৈরি করছেন। আবার কেউ শুকানোর পর তা যত্নসহকারে পরিষ্কার করছেন। সমিতির ব্যবস্থাপক রাজকুমার বলেন, ‘এ শিল্পের ঐতিহ্য খুবই সমৃদ্ধিশালী। একসময় ঘরে ঘরে হাঁড়িপাতিল থেকে গৃহস্থালি সব কাজে ব্যাপকহারে ব্যবহার হতো মৃৎশিল্পের নানা তৈজসপত্র। আমরা এখানে মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র তৈরি করি।’
চৈতালি দাস নামে এক কর্মী জানান, মাত্র ৩ হাজার টাকা মাসিক বেতনে প্রায় তিন বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। স্বামী মারা গেছেন। একটি মেয়ে আছে। তাই কোনো উপায় না পেয়ে সংসার চালাতে এ কাজ বেছে নিয়েছেন। সমিতির পরিচালক বটোকৃষ্ণ পাল জানান, বর্তমানে বহির্বিশ্বে এ শিল্পের বেশ চাহিদা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে এ শিল্পের অনেক চাহিদা তৈরি হয়েছে। মফিজুল ইসলাম নামে ঢাকার একজন ব্যবসায়ী এখান থেকে পণ্য নিয়ে কাতারে রপ্তানি করেন। হাসান নামে আরেকজন ব্যবসায়ী রপ্তানি করেন সৌদি আরবে। অন্য দুই ব্যবসায়ী এখানকার পণ্য নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান। তবে গতানুগতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এ শিল্প বেশি দিন ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন দরকার আধুনিক সব যন্ত্রপাতি।